News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
কুমিল্লা প্রতিনিধি প্রথম পাতা 2026-09-20, 12:01pm

স্বজনদের চোখের জলে অপ্রতিমকে শেষ বিদায়

opritom-1d5bee6027e6768bf5cb43889d5ceda71789884102.jpg


বুকফাটা কান্না আর স্বজনদের চোখের জলে একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার মা-বাবা। ১৩ বছরের কিশোর অপ্রতিমের নিথর দেহ যখন জানাজার জন্য নেওয়া হয়, তখন স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার এই কিশোরকে শেষবারের মতো দেখতে ও বিদায় জানাতে ছুটে আসেন পরিচিতজনেরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। এর আগে গন্ধমতি স্কুল মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন পরিবারের সদস্য, স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অংশ নেন। প্রিয়জনের মরদেহ সামনে রেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো এলাকায় তৈরি হয় শোকাবহ পরিবেশ।

শেষ বিদায়ে স্বজনদের কান্না

একমাত্র সন্তানকে হারানোর শোক কোনোভাবেই যেন সামলাতে পারছিলেন না অপ্রতিমের মা-বাবা। স্বজনদের সান্ত্বনাতেও তাদের কান্না থামছিল না। যে সন্তানকে ঘিরে ছিল পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা, সেই সন্তানকেই শেষবারের মতো বিদায় দিতে হলো তাদের।

জানাজায় অংশ নেওয়া স্বজন ও প্রতিবেশীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অপ্রতিমের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না কেউই। কিশোরটির পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক।

জানাজার আগে স্বজন ও প্রতিবেশীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তারা বলেন, একটি কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপস্থিত স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তারা বলেন, একটি শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা পরিবার ও সমাজের সবার দায়িত্ব। কিন্তু অপ্রতিমের মতো একটি কিশোর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

দুই দফা জানাজা

রোববার অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা এতে অংশ নেন।

প্রথম জানাজার পর অপ্রতিমের মরদেহ নেওয়া হয় গন্ধমতি স্কুল মাঠে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজাতেও বিপুলসংখ্যক স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে স্বজনদের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে অপ্রতিমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে। সেখানে তাকে দাফন করা হয়।

শোকের ভারে নীরব গন্ধমতি

দাফনের সময় গন্ধমতি গোরস্থান ও আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের কান্নায় উপস্থিত মানুষের চোখেও পানি চলে আসে। শেষবারের মতো অপ্রতিমকে বিদায় জানান স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

১৩ বছরের একটি প্রাণের এমন নির্মম পরিণতিতে শোক নেমে এসেছে তার পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে। জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ব্যক্তিরা অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার কথা বলেন।

একদিকে একমাত্র সন্তানকে হারানোর শোক, অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রত্যাশা, সব মিলিয়ে অপ্রতিমের পরিবার এখন গভীর বেদনার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের একটাই দাবি, অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

অপ্রতিমের শেষ বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তার পরিবারের দীর্ঘ এক অপেক্ষা। তবে তার মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা এখনো স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে প্রবল। তারা চান, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।