
মৃত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পুনর্বিবাহ না করলে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন। এ জন্য বছরে একবার পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে এ অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে নতুন নিয়ম নির্ধারণ করে আজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, নিট পেনশন, আনুতোষিক, পারিবারিক পেনশন ও ছুটি নগদায়নের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বিধানগুলো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
নতুন নিয়মে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পাঁচ বছর থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তার বেশি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে পেনশনের হার নির্ধারণ করা হবে। চাকরিকালের সঙ্গে ধাপে ধাপে পেনশনের হার বাড়বে।
পাঁচ বছর চাকরি পূর্ণ হলে পেনশনের হার হবে সর্বশেষ মূল বেতনের ২১ শতাংশ। ১০ বছর চাকরিতে এ হার ৩৬ শতাংশ, ১৫ বছরে ৫৪ শতাংশ এবং ২০ বছরে ৭২ শতাংশ।
এ ছাড়া ২১ বছর চাকরিতে ৭৫ শতাংশ, ২২ বছরে ৭৯ শতাংশ, ২৩ বছরে ৮৩ শতাংশ এবং ২৪ বছরে ৮৭ শতাংশ পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালে পেনশনের হার হবে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ।
বিদ্যমান পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে গত ৩০ জুন পাওয়া নিট পেনশনের ভিত্তিতে নতুন পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। এতে নতুন নিট পেনশন হবে ১০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা।
৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে বৃদ্ধি হবে ৭৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশন হবে ১৮ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা।
২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে বৃদ্ধি হবে ৬৫ শতাংশ। নতুন নিট পেনশন হবে ৩৫ হাজার ১ টাকা থেকে ৪৯ হাজার টাকা।
৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে বৃদ্ধি হবে ৬০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নতুন নিট পেনশন হবে ৪৯ হাজার ১ টাকা থেকে ৬২ হাজার টাকা।
৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হবে ৫৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশন হবে ৬২ হাজার ১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা।
তবে বর্তমানে যাঁরা ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাঁরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বর্তমান হারেই পেনশন পাবেন। এরপর প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হবে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে আনুতোষিকের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১০ বছরের কম চাকরির ক্ষেত্রে প্রতি টাকায় আনুতোষিক হবে ২৬৫ টাকা।
১০ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১৫ বছরের কম চাকরিতে প্রতি টাকায় ২৬০ টাকা, ১৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ২০ বছরের কম চাকরিতে প্রতি টাকায় ২৪৫ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতি টাকায় ২৩০ টাকা আনুতোষিক পাওয়া যাবে।
অবসরের সময় সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে।
অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল এবং ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের অর্জিত ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তর করা যাবে। পিআরএল ভোগ না করলেও নির্ধারিত শর্তে ছুটি নগদায়নের সুবিধা পাওয়া যাবে।
চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো কর্মচারী স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে বা মারা গেলে নির্ধারিত শর্তে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিসাব ও সুবিধার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে চাকরিকালের ভিত্তিতে পেনশনের হার, বিদ্যমান পেনশনভোগীদের নিট পেনশন, আনুতোষিক ও ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।