News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
বঙ্গলোক ডেস্ক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা 2026-09-17, 10:15am

হামের লক্ষণ কী, প্রতিকার ও প্রতিরোধে যা করবেন

ham-79af0c177db2ee64b7301af6e1d536341789618518.jpg


হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বেশি হলেও টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। জ্বর, সর্দি-কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়ে পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নিলে হাম থেকে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

হাম মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে ছড়ায়। রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি অবস্থান করলে অন্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হামের প্রধান লক্ষণ

হামের উপসর্গ সাধারণত সংক্রমণের কয়েক দিন পর প্রকাশ পায়। শুরুতে জ্বর, শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এরপর মুখমণ্ডল বা চুলের গোড়ার দিক থেকে লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। ধীরে ধীরে এসব ফুসকুড়ি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু রোগীর মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগও দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা ও শরীরে অস্বস্তি থাকতে পারে।

হামের প্রতিকার কী?

হামের জন্য সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য থাকে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য জটিলতা প্রতিরোধ করা।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি ও অন্যান্য তরল খাবার পান করতে হবে। জ্বর বা শরীরে অস্বস্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন এ দেওয়া হতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ বা ভিটামিনের উচ্চমাত্রা গ্রহণ করা উচিত নয়।

আক্রান্ত হলে যা করবেন

হামের সন্দেহ হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোগটি সহজেই ছড়াতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত।

অসুস্থ অবস্থায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

যেসব লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি

হামের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পানিশূন্যতা, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

শিশুর ক্ষেত্রে জ্বর বা ফুসকুড়ির সঙ্গে খাওয়ায় সমস্যা, শ্বাসকষ্ট কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

টিকাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হামযুক্ত টিকা নেওয়া। এমএমআর (MMR) টিকা হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া দেশভেদে হাম প্রতিরোধে অন্যান্য হামযুক্ত টিকাও জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেওয়া হতে পারে।

শিশুর টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা জরুরি। টিকা নেওয়া হয়নি বা টিকার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে চিকিৎসক কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হামের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। সময়মতো শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে দূরে রাখার মাধ্যমে সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।