News update
  • ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০০ ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৮৬৬     |     
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছরের প্রথম দিকে শুরু: মীর শাহে আলম     |     
  • বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম     |     
  • পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে জরিমানা ১০ হাজার টাকা     |     
বঙ্গলোক ডেস্ক আন্তর্জাতিক 2026-09-01, 6:19pm

আফগানিস্তান যুদ্ধের ভুক্তভোগীরা এখনও বিচারহীন: জাতিসংঘ

screenshot_20260901-180648_chrome-92b8f3b2c329b12009da470251fc67671788265193.jpg

ছবি- সংগৃহীত


আফগানিস্তানে ২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চলা দীর্ঘ যুদ্ধের অধিকাংশ বেসামরিক ভুক্তভোগী এখনো বিচার, ক্ষতিপূরণ কিংবা তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। 

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরবর্তী দুই দশকে তালেবান, ইসলামিক স্টেট (দায়েশ), আফগান সরকারি বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সংঘর্ষে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, ওই সময়ের সহিংসতায় ৪০ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ৭৭ হাজার আহত হন। ২০০৯ সাল থেকে বেসামরিক হতাহতের তথ্য নথিবদ্ধ করে আসছে ইউএনএএমএ, যা ২০০১-২০২১ সালের যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম বিস্তৃত নথি। 


এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন যুদ্ধের ক্ষত

কাবুলের তাপা-ই-শুহাদা বা ‘শহীদদের পাহাড়’ যুদ্ধের সেই ভয়াবহ স্মৃতির সাক্ষ্য বহন করছে। পাহাড়টির বিভিন্ন অংশে রয়েছে অসংখ্য কবর। এর অনেকগুলোই হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষের, যারা তালেবান ও দায়েশের বিভিন্ন হামলায় বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে এএফপির দেখা একটি কবর ২১ বছর বয়সী সুহাইলার। কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় নিহত হন তিনি। আরেকটি কবর ১৭ বছর বয়সী মুহাম্মদ হাদির, যিনি ২০২০ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক একটি স্কুলে দায়েশের দাবি করা হামলায় নিহত হন।

ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী মুহাম্মদও। কম সামর্থ্যের পরিবার থেকে উঠে আসা এই তরুণের স্বপ্ন ছিল কম্পিউটার প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু হামলার পর মানসিক সমস্যার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অনিয়মিতভাবে দর্জির কাজ করেন।

তার ভাষায়, “বিশ্ব আমাদের ভুলে গেছে।” তার মা জানান, ছেলে এখনো রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে এবং দিন দিন তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে।

ইউএনএএমএর সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রায় ২০০ ভুক্তভোগীর মধ্যে ৯৫ শতাংশই মানসিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে স্মৃতিশক্তি হারানো, বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার চিন্তার মতো সমস্যাও রয়েছে। 

‘কেউ আমাদের কথা শোনেনি’

কাবুলের দক্ষিণে লোগার প্রদেশের কৃষক খান ইউসুফি জানান, একদিন তার আট বছর বয়সী ছেলে বাড়ির সামনে খেলছিল। আফগান প্রজাতন্ত্রের পুলিশ বাহিনীর একটি ট্যাংক সেদিকে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই শিশুটি নিহত হয়।

ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে গিয়ে ইউসুফির স্ত্রীও গুলিতে আহত হন। তিনি বলেন, সাবেক আফগান সরকারের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে বিচার পাওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো ফল পাননি।

তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর তার সেই প্রচেষ্টাও আর এগোয়নি।

জবাবদিহির উদ্যোগ সীমিত

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০০৬ সালে আফগানিস্তানে শান্তি, পুনর্মিলন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২০ সালের যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান শান্তিচুক্তিতেও যুদ্ধের ভুক্তভোগীদের অধিকার, বিচার বা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। 

তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর সাধারণ ক্ষমা আইন জারি করেছে এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব সীমিত আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএনএএমএ।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জবাবদিহির প্রচেষ্টা নানা বাধার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) আফগানিস্তানের সংঘাত নিয়ে তদন্ত শুরু করলেও পরে সীমিত সম্পদ ও গুরুতর অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় তদন্তের মূল দৃষ্টি তালেবান ও ইসলামিক স্টেটের কথিত অপরাধের দিকে কেন্দ্রীভূত করে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। ২০২২ সালে একটি ডাচ আদালত ২০০৭ সালে আফগানিস্তানে একটি প্রাণঘাতী বিমান হামলায় নিহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অস্ট্রেলিয়ার এক সাবেক বিশেষ বাহিনীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে, যদিও সেই বিচার এখনো শেষ হয়নি। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার সত্য ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার মতো উদ্যোগ থেকে আফগানিস্তান শিক্ষা নিতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

তালেবান সরকার ইউএনএএমএকে জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে তারা শহীদদের পরিবার, বিধবা ও এতিমদের জন্য প্রায় ৬৯৫ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছে।

তবে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের কাছে অর্থনৈতিক সহায়তা হারানো স্বজনদের ক্ষত বা ন্যায়বিচারের অভাব পুরোপুরি পূরণ করতে পারছে না। দুই দশকের যুদ্ধ শেষ হলেও আফগানিস্তানে হাজারো পরিবার এখনো স্বীকৃতি, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।