News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক 2026-09-02, 9:13am

ইরানের দুই তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

tank-4107c0a4db3fa48dd9aac2701b32b1431788318817.jpg


ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ইরানের দুটি সরকারি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।


ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।


অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুমোদিত নতুন ‘ট্যাংকারের বদলে ট্যাংকার’ নীতির অংশ। এই নীতির আওতায় হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলা ঠেকাতে দেশটির তেলবাহী ট্যাংকারকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবারের অভিযানে ইরানের প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও যোগাযোগ অবকাঠামো ছিল। এ ছাড়া মাইন পাতা ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।


কর্মকর্তারা জানান, ইরানের উপকূলের কাছে মার্কিন নৌ অবরোধ রেখার উত্তরে দুটি ইরানি ট্যাংকার নোঙর করা ছিল। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ট্যাংকার দুটির ইঞ্জিন কক্ষে আঘাত হানে।


পাল্টা হামলা ইরানের


মার্কিন হামলার পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান প্রায় ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর একটি অংশ জর্ডানের আকাশসীমার দিকে যায় এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয় বলে দাবি করেছেন তাঁরা।


এ ছাড়া বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের এরবিলে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।


হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে আইআরজিসির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাব দিতেই মঙ্গলবারের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।


হরমুজে কমেছে জাহাজ চলাচল


সংঘাতের মধ্যেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা ও নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে স্বাধীন জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।


রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মাত্র পাঁচটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। ওই দিন কোনো তরল জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকারের চলাচলও রেকর্ড করা হয়নি।


রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে।


বেসামরিক হতাহতের দাবি


এদিকে দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের কাছে মার্কিন হামলায় বেসামরিক হতাহতের দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না বলেও দাবি করেছে তারা।


তবে ওই হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।


হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের নতুন এই অধ্যায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।