
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আগের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে দক্ষিণ গাজা উপত্যকার রাফাহর আল-মাওয়াসি এলাকায় এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত ওই কিশোর ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
মধ্য গাজার সালাহ আল-দিন সড়কেও এক ফিলিস্তিনি নারীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই সড়কটি ‘মৃত্যুর সড়ক’ নামে পরিচিত। এর আগে এই পথে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে গাজার উপকূলীয় এলাকাতেও ইসরায়েলি বাহিনীর গুলির ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলের কাছে ফিলিস্তিনি জেলেদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি নৌযান থেকে গুলি চালানো হলে তিনজন জেলে আহত হন।
রোববার রাতেও যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার কাছে বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবুতে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের হামাদ এলাকার কাতার ক্যাম্পে এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এলাকাটি হলুদ রেখা থেকে বেশ দূরে হলেও সেখানে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক যান থেকেও গুলি ছোড়া হয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতির জন্য নির্ধারিত হলুদ রেখার ভেতরেও ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ফিলিস্তিনিদের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৭০ শতাংশের বেশি এলাকার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে হতাশা আরও বাড়ছে এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়সহ মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ৩৪৪ দিনের মধ্যে ৩০৮ দিনই গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ ওই সময়ে মাত্র ৩৬ দিন কোনো সহিংস হামলা, মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ ও ২৯ অক্টোবর ছিল ওই সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুটি দিন। ওই দুই দিনে ইসরায়েলি হামলায় মোট ১৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
তবে যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। একই সময়ে গাজায় হামলা ও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিয়ে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।