
মালয়েশিয়ায় অবৈধ বা নথিবিহীনভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। একই সঙ্গে গ্রেফতার ও আইনি জটিলতা এড়াতে দেশটির সরকারের ঘোষিত মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০ (পিআরএম ২.০)-এর সুযোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই রোববার দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশিদের উদ্দেশে এ আহ্বান জানান বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশিদের আইনসম্মত ও নিরাপদভাবে নিজ নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিতে মালয়েশিয়া সরকার পিআরএম ২.০ চালু করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাইকমিশন জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের পাসপোর্ট নেই অথবা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পারমিট (টিপি) সংগ্রহ করতে পারবেন।
এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে বিমানের যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।
আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি, দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ নেই।
আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো ও নতুন পাসপোর্ট। একই সঙ্গে নিশ্চিত বিমান টিকিটও থাকতে হবে।
অবৈধ বাংলাদেশিদের সতর্ক করে তরিকুল ইসলাম বলেন, পিআরএম ২.০-এর আওতায় আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে।
হাইকমিশনের এ সতর্কবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযান জোরদার হয়েছে। ফলে গ্রেফতার হয়ে আইনি জটিলতায় পড়ার আগেই সরকারি কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশিদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ নিয়ম ও তথ্য জেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।