
ছবি: সংগ্রহীত
২০২৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন-এর একটি অপ্রকাশিত ফ্যাশন লুক প্রকাশ্যে আসতেই তা ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। লেবানিজ ফ্যাশন ডিজাইনার Tony Ward-এর তৈরি করা রাজকীয় সাদা কাস্টম গাউনে ঐশ্বরিয়াকে আবারও ‘কানের রানি’ হিসেবে অভিহিত করছেন ফ্যাশনপ্রেমীরা।
এই বিশেষ গাউনটি তৈরি করা হয়েছে অসাধারণ কারুকার্যে। পোশাকটির পুরো এমব্রয়ডারিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৭ হাজারেরও বেশি খাঁটি মুক্তা, যা সাগরের ঢেউয়ের মতো ক্যাসকেডিং নকশায় সাজানো। প্রতিটি মুক্তা নিখুঁতভাবে বসাতে কারিগরদের লেগেছে ৬০০ ঘণ্টারও বেশি সময়।
গাউনটির বিশেষ আকর্ষণ ছিল এর রাজকীয় ট্রেইন ও কেপ। হাতা ও পেছনের দীর্ঘ কেপ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৪০ মিটার প্রিযটাইন সিল্ক ট্যাফেটা কাপড়। স্ট্র্যাপলেস ডিজাইনের এই পোশাকে ছিল অ্যাসিমেট্রিক্যাল নেকলাইন, স্ট্রাকচার্ড কর্সেট বডিস এবং ফ্লোর-লেন্থ টুল ফিনিশিং, যা পুরো লুকে এনেছে রাজকীয় আবহ।
ঐশ্বরিয়ার এই লুকটি সাজিয়েছেন মোহিত রায়, তরঙ্গ অগ্রবাল ও চিন্তন শাহ। মুক্তার ঝলকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি পরেছিলেন হিরের ঝোলানো দুল, আকর্ষণীয় আংটি এবং এমবেলিশড হিল জুতো।
মেকআপে রাখা হয়েছিল পরিশীলিত ‘সফট গ্ল্যাম’ স্টাইল। হালকা শিমারি আইশ্যাডো, উইংড আইলাইনার, মভ রঙের গ্লসি লিপ এবং তাঁর পরিচিত সাইড-পার্টেড ওয়েভি হেয়ারস্টাইল লুকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
২০২৬ সালের কান উৎসবে ঐশ্বরিয়ার নীল রঙের মারমেইড গাউন ও সাদা ট্যাক্সিডো লুকও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। তবে উৎসব শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার মনোরম পটভূমিতে ধারণ করা এই মুক্তাখচিত গাউনের ছবি প্রকাশ পাওয়ায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তাঁর ফ্যাশন সেন্স।
ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, ঐশ্বরিয়ার এই লুক শুধু একটি পোশাক নয়, বরং উচ্চ ফ্যাশনের কারুকার্য, ঐতিহ্য ও আধুনিক সৌন্দর্যের এক অনন্য উদাহরণ।