News update
  • শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন     |     
  • ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়     |     
  • ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা     |     
  • হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে     |     
বঙ্গলোক ডেস্ক সাহিত্য ও সাময়িকী 2026-08-03, 8:39pm

চার দশকের আতঙ্ক ও নতুন অধ্যায় ‘ইভিল ডেড বার্ন’

screenshot_20260803-203107_google-fa19b7baf0891b74648eda7acdc7182c1785767953.jpg

ছবি- সংগৃহীত @thealexvincent এর ইনস্টাগ্রাম থেকে।


চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘ইভিল ডেড’ ফ্র্যাঞ্চাইজি হরর ধারার অন্যতম প্রভাবশালী ও দীর্ঘস্থায়ী নাম হিসেবে টিকে আছে। স্বল্প বাজেটের স্বাধীন চলচ্চিত্র হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক হরর সিরিজে পরিণত হয়েছে। ভয়, রক্তাক্ততা, অন্ধকার রসিকতা ও অভিনব ব্যবহারিক বিশেষ প্রভাবের সমন্বয়ে প্রতিটি নতুন কিস্তি ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে।

১৯৮১ সালে স্যাম রাইমি পরিচালিত ‘দ্য ইভিল ডেড’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এর সূচনা হয়। ব্রুস ক্যাম্পবেল অভিনীত অ্যাশ উইলিয়ামস চরিত্রটি ‘নেক্রোনমিকন এক্স মর্টিস’ নামের রহস্যময় বইয়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া ডেডাইট নামের দানবীয় শক্তির মুখোমুখি হয়। সীমিত বাজেট সত্ত্বেও অভিনব ক্যামেরা ব্যবহার, তীব্র আতঙ্ক এবং নির্মাণশৈলী চলচ্চিত্রটিকে কাল্ট মর্যাদা এনে দেয়।

পরবর্তী কিস্তি ‘ইভিল ডেড টু’ ও ‘আর্মি অব ডার্কনেস’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জগৎ আরও বিস্তৃত করে। অ্যাশ উইলিয়ামস ধীরে ধীরে হরর ঘরানার আইকনিক চরিত্রে পরিণত হন। পরবর্তীকালে চলচ্চিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে টেলিভিশন সিরিজ, কমিকস, ভিডিও গেম ও উপন্যাসেও এর বিস্তার ঘটে।

২০১৩ সালের রিবুট সংস্করণে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আরও অন্ধকার ও সহিংস রূপ নেয়। মনস্তাত্ত্বিক ভয়, রক্তাক্ততা এবং টিকে থাকার লড়াইকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইভিল ডেড রাইজ’ প্রচলিত কেবিনের পরিবেশ থেকে সরে এসে শহুরে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আতঙ্কের আবহ তৈরি করে নতুন মাত্রা যোগ করে।

এবার আসছে ‘ইভিল ডেড বার্ন’। নতুন এই চলচ্চিত্রে নতুন প্রেক্ষাপট, নতুন চরিত্র এবং ‘নেক্রোনমিকন’-এর অভিশপ্ত শক্তির আরেকটি অধ্যায় তুলে ধরা হবে। অতিপ্রাকৃত অধিকার ও বেঁচে থাকার সংগ্রামের পরিচিত উপাদান বজায় রেখেও এতে নতুন গল্প বলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অন্যতম শক্তি এর ধারাবাহিক রূপান্তর। প্রতিটি প্রজন্মের নির্মাতা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে এর পুরাণকে উপস্থাপন করেছেন, ফলে এটি কেবল নস্টালজিয়ায় আটকে থাকেনি। ভয়, রক্তাক্ততা ও অন্ধকার রসিকতার মিশ্রণে ‘ইভিল ডেড’ নিজস্ব পরিচয় ধরে রেখেই নতুনত্বের পথ খুঁজে নিয়েছে।

চলচ্চিত্রের বাইরে সাহিত্য ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও এর প্রভাব গভীর। বিচ্ছিন্নতা, ভয়, নিষিদ্ধ জ্ঞান ও প্রাচীন অশুভ শক্তির মুখোমুখি হওয়ার মতো বিষয়গুলো বহু লেখক ও নির্মাতাকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে ‘নেক্রোনমিকন’ হরর সাহিত্যের অন্যতম পরিচিত কাল্পনিক গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।

‘ইভিল ডেড বার্ন’ মুক্তির অপেক্ষার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে যে, চার দশক পরও এই ফ্র্যাঞ্চাইজি তার স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রেখে নতুন অধ্যায় রচনা করে চলেছে।