News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
বাগেরহাট প্রতিনিধি জাতীয় 2026-09-02, 9:01am

জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি দিচ্ছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

rampal-c77b5b984ea56a8606e2c410ded99fc51788318106.jpg


বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াচ্ছে। কেন্দ্রটির ধারাবাহিক উৎপাদন দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৫ দিনে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার কেন্দ্রটি এ সময়ে গড়ে ১ হাজার ৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে।


এর আগে গত জুন মাসে কেন্দ্রটি ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ওই মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে কেন্দ্রটি।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিকভাবে উচ্চ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে লোডশেডিং কমানো এবং শিল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রামপাল কেন্দ্রের উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক খান নোমান শিবলী বাসসকে বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশগত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও কারিগরি ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ধারাবাহিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হবে বলে তাঁরা মনে করছেন।


এদিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতা বাড়ছে। কেন্দ্রটির মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বাসসকে জানান, বর্তমানে কেন্দ্রটি মূলত বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।


তিনি বলেন, শুরুতে ভারতীয় প্রকৌশলীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেশীয় প্রকৌশলীরা কাজে লাগাচ্ছেন। ফলে বর্তমানে তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে কেন্দ্রটির অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করছেন।


কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী বলেন, জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রেখে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


তিনি জানান, কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে যান্ত্রিক বা লজিস্টিক কোনো সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত না হয়।


সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় গ্রিডে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ধারাবাহিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং কারিগরি সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি।


১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এর অবদান আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বাসস