
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক।
গত ১৮ আগস্ট আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছিল প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মামলায় দাখিল করা বিভিন্ন অডিও-ভিডিওতে এসব পরিকল্পনা ও নির্দেশনার প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি চালানো হয় এবং এতে বহু মানুষ নিহত হন।
মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন।