
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গাজীপুর-৫ (কালিগঞ্জ, পুবাইল-বারিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আখতারউজ্জামান আখতারের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর মুক্তিসহ সকল রাজনৈতিক বন্দীর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, আখতারউজ্জামান আখতার দেশের ছাত্ররাজনীতি, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)-এর সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং একাধিকবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে তিনি ভারতের দেরাদুনের ঢান্ডুয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি সেখানে প্রশিক্ষক (ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বেঙ্গল লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ)-এর একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতার ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন গাজীপুর-৩ (কালীগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তিনি গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং পরে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ, পুবাইল-বারিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয়ভাবে তিনি কালীগঞ্জের গণমানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, আখতারউজ্জামান আখতারের মতো একজন প্রবীণ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণমানুষের নেতাকে গ্রেফতার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা অবিলম্বে তাঁর মুক্তির পাশাপাশি সকল রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।