
ছবি: সংগৃহীত
বাবার হাত ধরে বেড়াতে বের হয়েছিল দুই শিশু। তাদের চোখে ছিল ঘরে ফেরার স্বপ্ন, মনে ছিল বাবার সঙ্গ। কিন্তু সেই পথই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল তাদের জীবনের শেষ যাত্রা। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ছয় বছরের মোহাদ্দিস মিয়া ও সাড়ে তিন বছরের তুলনা আক্তারকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবা কামরুল হাসানের (৩২) বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, সন্তানদের মৃত্যুর পর তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন দাবি করে ফেসবুক লাইভে এসে নিখোঁজের নাটক করেন বাবা। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কামরুল হাসান দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে। নিহত দুই শিশু মোহাদ্দিস ও তুলনা তারই সন্তান।
পুলিশের ভাষ্য, শুক্রবার বেড়ানোর কথা বলে দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে যান কামরুল। সেখানে দুই দিন থাকার পর রোববার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তারা। ফেরার পথে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাওয়া বাজার পার হয়ে ডাবর এলাকায় নামেন কামরুল। সেখান থেকে বড়কাপন এলাকায় গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় মেয়ে তুলনাকে পানিতে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন তিনি। পরে দিরাইয়ের রাস্তার পাশে মেডিকেল কলেজের সামনে পানিতে ফেলে দেন ছেলে মোহাদ্দিসকে।
পুলিশের কাছে কামরুল আরও দাবি করেছেন, হত্যার আগে দুই সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল।
একসময় যে দুই শিশুর কণ্ঠে ঘর ভরে থাকত হাসি-আনন্দে, সেই দুই শিশুর মরদেহ একে একে ভেসে উঠল পানিতে। মঙ্গলবার বড়কাপন এলাকা থেকে ছোট্ট তুলনার মরদেহ উদ্ধার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। পরদিন বুধবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের দেখার হাওরসংলগ্ন মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় মোহাদ্দিসের মরদেহ।
পরে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফেরার পর তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দাবি করে ফেসবুক লাইভে আসেন কামরুল। তার কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, কামরুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিকভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কী কারণে একজন বাবা নিজের দুই সন্তানকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করলেন, এর পেছনে আর কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।