
মসজিদের ইমামের থাকার কক্ষটি ছিল তালাবদ্ধ। কক্ষের চাবিও ছিল মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের কাছে। হঠাৎ সেই কক্ষের ভেতর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। মুহূর্তেই উড়ে যায় টিনের বেড়ার একাংশ। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ঘরে থাকা আসবাবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের মালেক আকনের বাড়ির আল আকসা জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আকাশ দুই দিন আগে ছুটিতে বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে তাঁর থাকার কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। কক্ষটির চাবি ছিল মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের কাছে।
মঙ্গলবার বিকেলে আসরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরে যান। এর কিছুক্ষণ পরই তালাবদ্ধ ওই কক্ষের ভেতর থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দেখেন, কক্ষটির টিনের চালার একটি অংশ উড়ে গেছে। টিনের বেড়ারও ক্ষতি হয়েছে। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, কক্ষটির ভেতরে আগে থেকেই কোনো ধরনের বিস্ফোরক রাখা থাকতে পারে। তবে কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে বিস্ফোরক রেখেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আকন বংশের লোকজন মসজিদের ভেতরে বোমা রেখে থাকতে পারেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাকিম আকন। তিনি বলেন, ‘মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে কে বা কারা বোমা রেখেছে, আমরা জানি না। মসজিদটি আমাদের। আমাদের ফাঁসানোর জন্য কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্তের দাবি জানাই।’
মসজিদ কমিটির সদস্য মালেক আকন বলেন, ‘ইমামের থাকার কক্ষে কে বা কারা বিস্ফোরক রেখেছে, সেটা আমরা জানি না। আমরা নামাজরত অবস্থায় থাকলে যদি বোমাটি বিস্ফোরিত হতো, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। কে বা কারা এবং কেন বোমা রেখেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে। এটি নাশকতার ঘটনা কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও বিস্ফোরণের ধরন পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।