
রাজধানীর কদমতলীতে ভাড়া বাসার খাটের নিচ থেকে ইয়ানূর বেগম (২৫) নামে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে ৬১ নম্বর ওয়ার্ড গলির ৬৭০ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে তার স্বামী মো. জুয়েল পলাতক রয়েছেন।
কদমতলী থানার এসআই কামরুন নাহার জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই বাসায় যায় পুলিশ। পরে খাটের নিচ থেকে ইয়ানূরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ইয়ানূরকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে জুয়েলের সঙ্গে ইয়ানূরের বিয়ে হয়। এরপর তারা ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার আগের রাতেও স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন ইয়ানূর।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে ইয়ানূরের ছোট ভাই ইমাম হোসেন তাকে ফোন করেন। একাধিকবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে তিনি ওই বাসায় যান। সেখানে দরজায় তালা দেখতে পেয়ে তা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরের মধ্যে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে খাটের নিচে বোনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ইয়ানূরের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়। তার বাবার নাম হানিফ হাওলাদার। এর আগে তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে বিবাহবিচ্ছেদের পর পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে তার। শিশুটি বর্তমানে নানা-নানির কাছে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, জুয়েল একটি পরিবহনের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।