
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গম চরাঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ভাসমান চিকিৎসা ক্যাম্প ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে নটরডেমিয়ান্স ফাউন্ডেশন ও রিজুভা ওয়েলনেস।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ও মোহনগঞ্জ চরে এ বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে পরিচালিত ভাসমান এ চিকিৎসা ক্যাম্পে দুর্গম চরাঞ্চলের কয়েক শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
ক্যাম্পে চিকিৎসকরা ব্যথা, হৃদরোগ, পেটের পীড়া, চর্মরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেন। পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা উপকরণ ও স্যানিটারি সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবারও বিতরণ করা হয়।
দুর্গম চরাঞ্চলে এমন উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, নদীভাঙন, ঝড়-ঝঞ্ঝা, বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে তাদের জীবনযাপন করতে হয়। এসব প্রতিকূলতার পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা, নিরাপদ বাসস্থানসহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকেও তারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। ফলে অসুস্থ হলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না তারা। এ ধরনের ভাসমান চিকিৎসা ক্যাম্প তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক উদ্যোগ।
চিকিৎসা ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন নটরডেমিয়ান্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি ডা. শাকিল আরিফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডা. দলিলুর রহমান, ট্রেজারার আসিফুর রহমান, রংপুর জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. তাশিকুল ইসলাম, মেজর আবদুল্লাহ সায়মন, সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ সারোয়ার ভূঁইয়ান, সায়েদুল হাসান, এক্স-নটরডেমিয়ান রুবাইয়্যাত রবীন, শুভংকর, স্থানীয় সংগঠক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকরা জানান, চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে তাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আগামীকাল ৩১ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার চিলমারীর চর অষ্টমীতে একই ধরনের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, চিকিৎসা উপকরণ, স্যানিটারি সামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা মানবিক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।