
রিলস নামের একটা বিশেষ ভিডিও শেয়ারিংয়ের ব্যবস্থা চালু আছে প্রায় সব জনপ্রিয় সোস্যাল মিডিয়ায়।এসব স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিওর মান নিয়ে কেউ ভাবে না। বরং একের পর এক স্ক্রল করে রিলস দেখে সময় নষ্ট করে মানুষ। কয়েক সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এসব ভিডিও মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কেড়ে নয়।
আক্ষরিক অর্থেই সোস্যাল মিডিয়ার এসব রিলসে আসক্ত হয়ে পড়াশোনা, গুরুত্বপূর্ণ কাজ, ব্যক্তিগত জীবন, এমনকি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।তবে সঠিক পদ্ধতি মেনে চললে এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
নিচে কিছু সহজ উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো-
▪️সময় ব্যবস্থাপনা করুন-
দিনের জন্য একটি সময়সূচি তৈরি করুন এবং সময় ভাগ করে নিন।কোন সময়টা রিলস দেখার জন্য বরাদ্দ করবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করুন। নির্দিষ্ট সময় পার হলে স্ক্রিন থেকে দূরে সরে যান।
▪️নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন-রিলসের নোটিফিকেশন বারবার মনোযোগ কাড়ে। কাজ বা পড়াশোনার সময় সোসাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
▪️ডিজিটাল ডিটক্স করুন-
সপ্তাহে অন্তত একদিন সোসাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন। সেই সময়টা বই পড়া, গান শোনা, বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার করুন।
▪️অন্য কাজে ব্যস্ত থাকুন-
রিলস দেখার অভ্যাস কমানোর জন্য এমন কাজে মন দিন। এটা আপনার সময়কে আরও মূল্যবান করে তুলবে। যেমন—নতুন কিছু শেখা, ব্যায়াম করা, বা বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দেওয়া।
▪️সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের অ্যাপ ব্যবহার করুন-
বর্তমানে কিছু অ্যাপ আছে যা আপনার সোসাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় ট্র্যাক করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমাবদ্ধ রাখে।এগুলো ব্যবহার করলে রিলস দেখার সময় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
▪️নিজেকে প্রশ্ন করুন-
প্রতিবার রিলস দেখার ইচ্ছা হলে নিজেকে প্রশ্ন করুন—‘এটা কি আমার কোনো উপকারে আসছে, নাকি শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে ?’ এই প্রশ্নের উত্তরই আপনাকে সচেতন হতে সাহায্য করবে।
পজিটিভ কন্টেন্ট দেখুন
যদি রিলস দেখতেই চান, তবে চেষ্টা করুন এমন কন্টেন্ট দেখতে যা শিক্ষামূলক বা প্রেরণাদায়ক। মজাদার কন্টেন্ট দেখার লোভ কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।
▪️পরিবার ও বন্ধুদের সাহায্য নিন-
আসক্তি কাটানোর জন্য কাছের মানুষদের সাহায্য নিন। তারা আপনাকে অনুপ্রাণিত করতে পারে এবং সঠিক পথে চলতে সাহায্য করবে।
রিলস বিনোদনের একটি মাধ্যম হলেও, অতিরিক্ত ব্যবহার জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার মাধ্যমেই আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চেষ্টা করুন সময়টাকে সঠিক কাজে ব্যয় করতে। ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় ফলাফল আনতে পারে।
(লেখা-সংগৃহীত)