News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক তথ্য ও প্রযুক্তি 2026-09-13, 11:54am

গাড়ি আর শুধু গাড়ি নয়, চার চাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়া

এআই, লিডার, রাডার, স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং ও স্মার্ট ককপিটে বদলে যাচ্ছে ড্রাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা

bongolok-c97cbab6542918b9c7cb8b461e011fa31789278840.png


একসময় গাড়ির মান নির্ধারণ করা হতো ইঞ্জিনের শক্তি, গতি ও আরামের ওপর। এখন সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আধুনিক গাড়ি হয়ে উঠছে চার চাকার কম্পিউটার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্যামেরা, রাডার, লিডার, জিপিএস ও শক্তিশালী কম্পিউটিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে গাড়ি এখন আশপাশের পরিবেশ বুঝতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে সক্ষম।


বিশ্বের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতারা—Mercedes-Benz, BMW, Tesla, Toyota, Audi, Porsche, Volvo ও Lexusনিরাপত্তা, আরাম ও স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিংয়ের প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা করছে।


এআই দেখছে চালকের চারপাশ


আধুনিক গাড়ির ক্যামেরা ও সেন্সর থেকে আসা বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই। সামনে থাকা গাড়ি, পথচারী, সাইকেল আরোহী কিংবা রাস্তার প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে চালককে সতর্ক করতে পারে এই প্রযুক্তি। কিছু গাড়িতে চালকের মনোযোগ ও ক্লান্তির মাত্রা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে।


লিডার-রাডারে ৩৬০ ডিগ্রি নজর

স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তিতে লিডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লেজার ব্যবহার করে এটি গাড়ির চারপাশের বস্তুর দূরত্ব ও অবস্থান সম্পর্কে ত্রিমাত্রিক তথ্য তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে রাডার শনাক্ত করে আশপাশের যানবাহনের অবস্থান ও গতি। ক্যামেরার তথ্যের সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে গাড়ির কম্পিউটার পরিবেশ সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা তৈরি করে।


বিপদে গাড়িই দিতে পারে ব্রেক


অটোমেটিক ইমার্জেন্সি ব্রেকিং এখন আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামনে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে প্রথমে চালককে সতর্ক করা হয়। চালক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি অনুযায়ী গাড়ি নিজেই ব্রেক প্রয়োগ করতে পারে।


লেন কিপিং অ্যাসিস্টও অনিচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি লেনের বাইরে চলে গেলে সতর্ক করে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্টিয়ারিংয়ে সামান্য নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করে গাড়িকে লেনে ফেরাতে সহায়তা করে।


স্মার্ট ককপিটে গাড়ি আরও ব্যক্তিগত


ডিজিটাল ডিসপ্লে, ভয়েস কমান্ড, নেভিগেশন, স্মার্টফোন সংযোগ ও এআইভিত্তিক ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট আধুনিক গাড়ির ককপিটকে বদলে দিয়েছে। ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা সরু জায়গায় পার্কিং সহজ করছে। অনেক গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় পার্কিং প্রযুক্তিও যুক্ত হয়েছে।


বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে বিশ্ব


জ্বালানি সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে। বৈদ্যুতিক গাড়িতে ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যাটারির তাপমাত্রা, চার্জ ও শক্তি ব্যবহারের ওপর নজর রাখে। একই সঙ্গে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে গাড়ির কিছু ফিচার উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।


ভবিষ্যতের গাড়ি হবে আরও বুদ্ধিমান


গাড়ি থেকে গাড়ি এবং গাড়ি থেকে অবকাঠামোর মধ্যে যোগাযোগের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দুর্ঘটনা, যানজট বা রাস্তার ঝুঁকি সম্পর্কে গাড়ি আগেই তথ্য পেতে পারে।


তবে প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, সব পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা মানুষের বিকল্প নয়। চালকের সতর্কতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভবিষ্যতের গাড়ির মূল প্রতিযোগিতা শুধু গতি বা বিলাসিতায় নয়—নিরাপত্তা, বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধবতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায়।