News update
  • ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়     |     
  • ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা     |     
  • হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে     |     
  • গ্রিসের উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, বাংলাদেশিই ৭২     |     
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বিশেষ সংবাদদাতা : সম্পাদকীয় 2026-08-05, 7:08pm

৫ আগস্টের আরেক বয়ান: গণঅভ্যুত্থানের আড়ালে রক্তাক্ত আগস্ট ও রাষ্ট্রের ক্ষত

image-310343-1757483164-83854520e975ffc9deb2c7ef56f276b71785944808.jpg

ছবি- সংগৃহীত


বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৫ আগস্ট ২০২৪ একটি গভীর বিতর্কিত ও বহুমাত্রিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এদিন দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে। এক পক্ষের কাছে এটি ছিল গণঅভ্যুত্থানের বিজয়, আর অন্য পক্ষের কাছে এটি ছিল একটি নির্বাচিত সরকারের পতন, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ভাঙন এবং ব্যাপক প্রাণহানির এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।

রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেবল একটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তৈরি হয় না। ৫ আগস্টের সঙ্গে যেমন রয়েছে আন্দোলনকারীদের দাবি ও হতাশার ইতিহাস, তেমনি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু, সরকারি স্থাপনায় হামলা, সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বড় ধরনের সংকটের স্মৃতিও।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে বহু পুলিশ সদস্য নির্মম হামলার শিকার হন। যারা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাদের অনেকেই প্রাণ হারান। আওয়ামী লীগ তাই দিনটিকে ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ হিসেবে স্মরণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরছে।

একটি রাষ্ট্রে পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, তারা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান। দায়িত্ব পালনরত কোনো পুলিশ সদস্যের মৃত্যু কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত। তাই নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করা এবং তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার বিষয় নয়।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না; এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনশৃঙ্খলার বড় ধরনের অবনতিও জড়িত ছিল। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের নামে সহিংসতা কখনো গণতন্ত্রের আদর্শ হতে পারে না।

তবে এটিও সত্য, যেকোনো গণআন্দোলনের পেছনে মানুষের ক্ষোভ, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা থাকে। একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো—সব পক্ষের অভিযোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও ঘটনার সত্যতা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা। কারণ ইতিহাস কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়; ইতিহাস জনগণের।

৫ আগস্টকে ঘিরে আজ বাংলাদেশে দুটি ভিন্ন স্মৃতি তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ এটিকে নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখে, অন্য পক্ষ দেখে রাষ্ট্রের জন্য এক গভীর ক্ষত হিসেবে। এই বিভক্ত স্মৃতি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন নয়, বরং সত্য উদঘাটন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। যারা নিহত হয়েছেন—তারা ছাত্র, সাধারণ মানুষ কিংবা পুলিশ—প্রত্যেকটি প্রাণের মূল্য সমান।

৫ আগস্টের শিক্ষা হওয়া উচিত, রাজনৈতিক বিরোধ কখনো যেন সহিংসতার দিকে না যায়। গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সংলাপ, সহনশীলতা এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান।

ইতিহাসের বিচার সময় করে। তাই ৫ আগস্টকে শুধু বিজয় কিংবা পরাজয়ের দিন হিসেবে নয়, বরং একটি রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন—যেখান থেকে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নিতে হবে।