
ছবি- সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) জুড়ে সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে হাওরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে ১ আগস্ট জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আওতায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এতে সব হাউসবোট মালিক ও পরিচালকদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নির্ধারিত ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। সময়সীমা পেরিয়ে নিবন্ধন বা সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো হাউসবোট বা পর্যটকবাহী নৌযান পরিচালনা করা যাবে না।
নির্দেশনায় হাউসবোটে উচ্চ শব্দে গান, মাইক ব্যবহার, পার্টি আয়োজন এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি হাউসবোটে পানি পরিশোধন ফিল্টার, সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ময়লার বিন স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাওর বা অন্য কোনো জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া হাউসবোটের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি হাউসবোটে পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে এবং ভ্রমণ শুরুর আগে তা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগ নম্বরও প্রদর্শন করতে হবে।
নির্দেশনায় প্রতিটি ভ্রমণে পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মতো প্রতিকূল আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নজরদারি ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।