
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও টেরিটরি থেকে ৪০ জনের বেশি ইমাম ও ইসলামি ধর্মীয় নেতা সিডনিতে একত্রিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের ঐক্য, সমন্বয় এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ইমাম পরিষদের বার্ষিক জাতীয় সমন্বয় সভায় দেশটির সাতটি অঙ্গরাজ্য ও টেরিটরি থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ইমাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সংগঠনটির নির্বাহী কমিটি, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও টেরিটরির ইমাম পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অস্ট্রেলিয়ার ফতোয়া পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া, কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলীয় রাজধানী অঞ্চল, তাসমানিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে ইমাম ও প্রতিনিধিরা সভায় যোগ দেন।
জাতীয় এ বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত ধর্মীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও টেরিটরির ইমাম পরিষদগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব আরও কার্যকর করা, সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
ইমাম, মসজিদ ও ইসলামি সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত করা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ইমাম পরিষদগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সম্পদ ভাগাভাগির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিরোধের সালিশ ও নিষ্পত্তি কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় অস্ট্রেলিয়ার তরুণ মুসলিমদের ইসলামি পরিচয় ও মূল্যবোধ ধরে রাখতে সহায়তা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ইমাম ও ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সম্পৃক্ততা এবং মুসলিম তরুণদের জন্য ইতিবাচক নেতৃত্ব ও যথাযথ দিকনির্দেশনা তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামবিদ্বেষ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে ২০২৬ সালের নবম অস্ট্রেলিয়া-এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্য সম্মেলন এবং ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিতব্য অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ইমাম পরিষদের ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য শক্তিশালী ও নীতিনিষ্ঠ ধর্মীয় নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে ইমামদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে ইমামরা সম্প্রদায়ের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ধর্মীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান এবং ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা আরও জোরদার করতে পারেন।
সভায় অংশ নেওয়া ইমাম ও প্রতিনিধিরা অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা, ইমাম ও ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকা এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি ঐক্যবদ্ধ কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর সমাজে মুসলিম সম্প্রদায়ের ইতিবাচক অবদান আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এ জাতীয় সমন্বয় সভা অস্ট্রেলিয়ার ইসলামি ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় ইমাম পরিষদের নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ইমামদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করে।
সভায় অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিডনিতে আসা সব ইমাম ও প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় জাতীয় ইমাম পরিষদ। সম্প্রদায়ের সেবা ও কল্যাণে তাঁদের অব্যাহত অবদানেরও প্রশংসা করা হয়।