
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন (Anti-Rabies Vaccine বা ARV) মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা. মো. রোমান বাদশা। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে এবং সাপে কাটার রোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ছোট্ট মোয়াজিয়াকে বিড়ালে কামড় দেওয়ার পর জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে একুশে টিভিতে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. মো. রোমান বাদশা বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত অফিস চলাকালীন সময়ে এই ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। এ কারণে সাপে কাটার রোগীদের জরুরি চিকিৎসার কথা বিবেচনায় রেখে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণ করা হয়েছে। সাপে কাটার পর কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য তিনি সবাইকে পরামর্শ দেন।
ডা. মো. রোমান বাদশা আরও জানান, সাপে কাটার রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সাপে কাটার ঘটনা ঘটলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তাদের প্রত্যাশা, অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন ও অ্যান্টিভেনমসহ জরুরি ওষুধের নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে জরুরি সময়ে রোগীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পান, সেটিও নিশ্চিত করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।