
৯৩ ঘাটে ৭৮ গণনা এলাকা, ৪০ গণনাকারীর প্রাথমিক তথ্য; ২০ আগস্ট শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী নৌযান শুমারি।
পদ্মা-মেঘনাবেষ্টিত শরীয়তপুরে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা জানতে শুরু হয়েছে নৌযান শুমারির প্রস্তুতি। জেলার ৯৩টি ঘাটকে ৭৮টি গণনা এলাকায় ভাগ করে ৪০ জন গণনাকারীর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৮৩৬টি নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট সারাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে নৌযান শুমারি-২০২৬।
এ উপলক্ষে রোববার শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে অবহিতকরণ সভা। সভায় নৌযান শুমারির উদ্দেশ্য, পদ্ধতি ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের নৌযান খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে এনে একটি নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরি করাই এই শুমারির অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে নৌযানের সংখ্যা, ধরন ও অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে নৌযান ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, নিবন্ধন ও নৌপথের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসব তথ্য ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
নদীবেষ্টিত শরীয়তপুরে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও জীবিকার বড় একটি অংশ নৌপথনির্ভর। জেলার বিভিন্ন নদী ও ঘাট দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী নৌযান, স্পিডবোট, ট্রলার, পণ্যবাহী নৌযানসহ বিভিন্ন ধরনের জলযান চলাচল করে। কিন্তু এসব নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ে সমন্বিত তথ্যভান্ডারের ঘাটতি রয়েছে।
শুমারির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি কোন এলাকায় নৌযানের চাপ বেশি, কোথায় বেশি ঘাট এবং কোন ধরনের নৌযান বেশি চলাচল করে—এসব তথ্যও উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে নৌপথের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুমারির সফলতা শুধু নৌযানের সংখ্যা নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চিহ্নিত করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, নৌযানের নিবন্ধন ও সার্ভে কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনা এবং দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হবে এ উদ্যোগের মূল সাফল্য।
শরীয়তপুরে প্রাথমিকভাবে পাওয়া ২ হাজার ৮৩৬টি নৌযানের তথ্য নদীমাতৃক এ জেলার নৌপরিবহন খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রথমবারের এই নৌযান শুমারির তথ্য কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ও পরিকল্পিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।