News update
  • জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান:বিএসপির মতবিনিময় ও সংবর্ধনা সভায় ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী     |     
  • শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন     |     
  • ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়     |     
  • ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা     |     
ইমরুল কাওছার, শরিয়তপুর প্রতিনিধি: জাতীয় 2026-08-08, 6:01pm

বেরিবাঁধের কাজ শেষ হওয়ার আগেই পালেরচরে পদ্মার ভয়াল ভাঙন

whatsapp-image-2026-08-08-at-8-4a66d710395df5ed072642a3815436cf1786190485.jpeg


আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং; কাজের গুণগত মান বজায় রেখে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া নদীপাড় এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মার তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের বিভিন্ন অংশে ধস নেমেছে। তীররক্ষায় বসানো কংক্রিটের ব্লক সরে গিয়ে একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছর কাথুরিয়া নদীপাড় এলাকায় বেরিবাঁধ ও নদীতীর সংরক্ষণের কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পদ্মার প্রবল স্রোতে তীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র স্রোতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ছে। তীররক্ষায় বসানো কংক্রিটের ব্লকগুলো সরে গিয়ে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্লকের নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ধসের সৃষ্টি হয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নৌযানে করে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ভাঙনকবলিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে সেগুলো নদীতীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ফেলছেন। তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের মধ্যেও ভাঙন প্রতিরোধে চলছে এই জরুরি কার্যক্রম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মার ভাঙন তাদের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ও স্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বাড়ে। তবে চলতি বছর বেরিবাঁধের কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি চলমান বেরিবাঁধ ও নদীতীর সংরক্ষণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধ ও তীররক্ষা ব্যবস্থা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তাদের প্রত্যাশা, শুধু সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো নয়, কাজের গুণগত মান বজায় রেখে টেকসই ও স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে। পদ্মার ভাঙন থেকে পালেরচর ও কাথুরিয়া নদীপাড়ের মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করবে—এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।

বর্ষার শুরুতেই কাথুরিয়া নদীপাড়ে ভাঙনের যে ভয়াবহ চিত্র দেখা দিয়েছে, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি চলমান বেরিবাঁধের কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সম্পন্ন করাই এখন এলাকাবাসীর প্রধান দাবি।