
শরীয়তপুরের শস্যভান্ডারখ্যাত জাজিরা উপজেলায় অতিবৃষ্টির কারণে এবার আগাম ও বর্ষাকালীন সবজি চাষে দেখা দিয়েছে বিলম্ব। টানা বৃষ্টিপাতে জমিতে পানি জমে থাকায় সময়মতো জমি প্রস্তুত ও চাষাবাদ করতে না পারায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন পিছিয়ে গেছে সবজি উৎপাদন। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে, কমেছে সবজির সরবরাহ।
জাজিরার কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। বিশেষ করে মালচিং ও মাচা পদ্ধতি ব্যবহার করে আগাম সবজি উৎপাদনে এখানকার কৃষকদের বেশ সুনাম রয়েছে। প্রতিবছর জাজিরায় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ সবজি শরীয়তপুরের স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে এ সময়ে জমিতে আগাম সবজির আবাদ ও উৎপাদন শুরু হয়ে যায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ শুরু করতেই দেরি হয়েছে। ফলে বাজারে নতুন মৌসুমের সবজির সরবরাহও কমে গেছে।
জাজিরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, অতিবৃষ্টির কারণে চলতি মৌসুমে সবজি চাষে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০ জন কৃষকের মধ্যে শাক-সবজির প্রণোদনা ও সার বিতরণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে কৃষকরা দ্রুত চাষাবাদ শুরু করে ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে শরীয়তপুরের অন্যতম বড় সবজি বিপণনকেন্দ্র মিরাশার চাষী বাজারে প্রতিবছরের তুলনায় এবার প্রায় অর্ধেক পরিমাণ সবজি বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন কৃষকরা। এতে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্বাভাবিক সময়ে মিরাশার চাষী বাজারে বিপুল পরিমাণ সবজি ওঠে। এখান থেকে প্রতি বছর কোটি টাকার সবজি পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যান। কিন্তু এবার উৎপাদন কম ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে বাজারে সবজির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাজিরার উৎপাদন শুধু শরীয়তপুর জেলার মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি সরবরাহের ক্ষেত্রেও এ উপজেলার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই অতিবৃষ্টির কারণে এখানকার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য বাজারেও পড়তে পারে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, বৃষ্টিপাত কমে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে সবজি চাষ শুরু করা সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বাজারে সবজির সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।