Warning: Trying to access array offset on value of type null in /home/dailybangolo/public_html/ndetails.php on line 13

Warning: Trying to access array offset on value of type null in /home/dailybangolo/public_html/ndetails.php on line 14
Daily Bangolok | ২০০৫ সালের বিএনপি-জামায়াত সরকারের কথা মনে আছে?
News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
আইন্দ্রিতা বারখা error 2026-11-01, 12:44pm

২০০৫ সালের বিএনপি-জামায়াত সরকারের কথা মনে আছে?

barkha-70a500fc79c2a79e74a23ad72ca87a761793515441.jpg


২০০৫ সালের বিএনপি-জামায়াত সরকারের কথা মনে আছে? বর্তমান পরিস্থিতি যেন আবার সেদিকেই যাচ্ছে!

২০০৫ সালে আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। সেই সময়েও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছিল ছাত্রশিবিরের লোকজন। আমরা সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছিলাম, যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সেই সময় থেকেই আমাদের মধ্যে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের বীজ বপন হয়েছিল। সেদিন আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, রাজাকারদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করব।

গতকালও সেই একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরে। বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রদ্ধেয় মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া হয়েছে।

কোথায় বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়? তারা কোথায়? তাদের কোনো ভূমিকা নেই কেন?

একই রকম কারবার!

এদিকে বিএনপি দাবি করে, তাদের পুরো পরিবারই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। তারেক-কোকো শিশু মুক্তিযোদ্ধা, জাইমা রহমান নাতি মুক্তিযোদ্ধা, আর বেগম খালেদা জিয়া বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা—যিনি নাকি বীরশ্রেষ্ঠ ক্যান্টনমেন্ট জয় করেছিলেন!

অন্যদিকে বিএনপি দাবি করে, জিয়াউর রহমানই মুক্তিযুদ্ধের আসল নায়ক।

অথচ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিজ গ্রামে কবর দিতে দেওয়া হলো না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই কেন? অথচ তারা দাবি করে তারা নাকি মুক্তিযোদ্ধার দল। কিন্তু তারা রাজাকারদের পিছনে ঘুরাঘুরি করে।

আপনারা বলেন, জামায়াতের এত ক্ষমতা কোথা থেকে আসে? তাদের পেছনের আসল শক্তি কারা?

আমার মতে, সেই শক্তির উৎস বিএনপি। এটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, ততই ভালো।

বিএনপিই রাজাকারদের রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম উৎস।

এই স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়ার পেছনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা ছিল—এটা সবার জানা।

জামায়াতের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের ইতিহাসে সুটকেস জিয়ার ভূমিকা ভুলে গেলে চলবে না।

গোলাম আযম, নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পাকিস্তান থেকে ডেকে এনে নাগরিকত্ব দিয়ে তাদের রাজনৈতিক উত্থান ঘটিয়েছিল তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধার হিরো।

আর আজ সেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, তারা মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা পরাচ্ছে, নিজ গ্রামে কবর দিতে বাধা দিচ্ছে!

আমার প্রশ্ন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে কেন?

মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা, সম্মান, অধিকার ও অসুবিধাগুলো দেখভাল করাই তো এই মন্ত্রণালয়ের কাজ। তাই না?

তাহলে একজন মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কোথায়?

যদি তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার রক্ষা করতে না পারে, তাহলে এই খানকির পোলারা ওখানে বসে বসে বেতন নিচ্ছে কিসের জন্য?

আমার তো মনে হয়, সেখানে যাদের বসানো হয়েছে, তাদের অনেকেই জামায়াতঘনিষ্ঠ।

ইশরাককে বসানো হয়েছিল। দেখেন, ইশরাকের পদত্যাগে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছে কারা? জামায়াতে ইসলামী!

এবার মিলিয়ে নিন।

একদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অন্যদিকে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত সংসদ ঝুমা। সবগুলোর পারিবারিক ইতিহাস দেখেন তারা মুক্তিযুদ্ধের চরম বিরোধতাকারী অথচ তাদেরকে বসানো হয়েছে ওখানে। 

ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখুন, বিএনপি যেন সাইনবোর্ড হিসেবে আছে, কিন্তু ক্ষমতার ভেতরে প্রভাব বিস্তার করছে জামায়াতে ইসলামী।

পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্যাংক, অর্থনীতি, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জামায়াতের প্রভাব ।

তবে যা-ই হোক, তারা আরেকটি বড় ভুল করেছে। এই ভুলের রাজনৈতিক মাশুল তাদের একদিন দিতেই হবে।

২০০৫-০৬ সালেও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে একই ধরনের আচরণের ঘটনা ঘটেছিল। তারপর গণজাগরণ আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছিল। এবং সেটা সফল হয়েছিল অসংখ্য রাজাকারের ফাসির মাধ্যমে।

সেই ইতিহাস মনে রাখবেন।

যা-ই হোক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ মর্যাদায় কবর দিতে না দেওয়ার বিষয়টা আমাদের কাছে পেন্ডিং থাকল।

আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় ফিরে এলে যেন তাঁকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে পুনরায় সম্মানিত করার ব্যবস্থা করা হয়।

এমন ইতিহাস আগেও রয়েছে।

১৯৯৩ সালে মুন্সীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাশিমকেও যথাযথ মর্যাদায় দাফন করতে দেওয়া হয়ছিল না, পরে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

গত আড়াই বছরে যেসব মুক্তিযোদ্ধা অসম্মানিত হয়েছেন, মৃত্যুর পর যথাযথ সম্মান পাননি—মতিয়া চৌধুরী থেকে শুরু করে এমন অসংখ্য মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করে রাখা উচিত।

কারণ তাঁদের প্রত্যেকেরই প্রাপ্য সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

আর আমি এসব দেখে মোটেও বিচলিত নই।

কারণ বিএনপির এই রাজনৈতিক চেহারাটা আমাদের নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানত না। এখন তাদের চোখের সামনেই এসব ঘটনা ঘটছে। তারাও ধীরে ধীরে বুঝতে পারবে।

ধন্যবাদ, খাম্বা বিএনপিকে!

রাজাকারদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রকৃত চেহারা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য।

আমরা তো ভুলে যাইনি, গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আমাদের আন্দোলনের সময় খালেদা জিয়া আমাদের সম্পর্কে কী বলেছিলেন!

সেই সময় বিএনপির অবস্থান কী ছিল, সেটাও আমরা ভুলিনি।

তারা তখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে যে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিল, সেটি ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

আর এখন সংসদে বসে জামায়াতকে ‘রাজাকার, রাজাকার’ বলে যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, আমার কাছে সেগুলো সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না।

ধীরে ধীরে মানুষও বিষয়গুলো বুঝতে শুরু করেছে।

আরও কিছুদিন যেতে দিন। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, সম্পর্ক এবং স্বার্থের হিসাব আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তাই আমি মনে করি, এসব ঘটনা সামনে আসা দরকার ছিল। নতুন প্রজন্মের এসব ইতিহাস জানা দরকার ছিল।

কারণ নতুন প্রজন্মের অনেকের চোখে বিএনপি এত দিন নিষ্পাপ ছিল।

এবার তাদের চোখের সামনে বাস্তবতা উন্মোচিত হচ্ছে।

ইতিহাস ভুলে গেলে ইতিহাসই একদিন নতুন করে সবকিছু মনে করিয়ে দেয়।

বারখার ডাইরি (পৃষ্ঠা ৩৬৯৯)