
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম অস্ট্রেলিয়ার ৪০৭ ট্রেনিং ভিসা (Subclass 407 Training Visa)। এটি মূলত একটি সাময়িক বা অস্থায়ী ভিসা, যা কোনো সাধারণ চাকরি নয়, বরং বাস্তব প্রশিক্ষণের (Workplace-based training) সুযোগ দেয়। তবে আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া সরকারি নতুন নিয়মের কারণে এই ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।
৪০৭ ভিসার আওতায় একজন সফল আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ায় সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত থাকার এবং প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রে কাজের অনুমতি থাকে, যা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখে। এছাড়া, আবেদনকারী চাইলে তার যোগ্য পরিবারকেও (যেমন: স্ত্রী/স্বামী ও সন্তান) সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারেন এবং ভিসার মেয়াদ থাকাকালীন যতবার ইচ্ছা নিজ দেশে আসা-যাওয়া করতে পারেন।
এই ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, অস্ট্রেলিয়ার কোনো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা মালিকের কাছ থেকে স্পনসরশিপ (Temporary Activities Sponsor) এবং নমিনেশন বা মনোনয়ন পাওয়া বাধ্যতামূলক। দ্বিতীয়ত, বিগত ২৪ মাসের মধ্যে অন্তত ১২ মাস সংশ্লিষ্ট পেশায় ফুল-টাইম কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অথবা সমমানের পড়াশোনার ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য ইংরেজি ভাষার বেসিক দক্ষতা (যেমন: IELTS-এ নূন্যতম ৪.৫ বা সমমানের স্কোর) থাকতে হবে এবং বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
এই ভিসায় অন্যতম প্রধান শর্ত হলো কাজের সীমাবদ্ধতা (Condition 8102)। এর অর্থ হলো, আবেদনকারী যে স্পনসর এবং যে নির্দিষ্ট ট্রেনিংয়ের জন্য ভিসা পেয়েছেন, শুধুমাত্র সেই কাজ বা ট্রেনিংই করতে পারবেন। এর বাইরে অন্য কোনো সাধারণ চাকরি বা ব্যবসা করা আইনত দণ্ডনীয়। এছাড়া, এই ভিসার মেয়াদ অস্ট্রেলিয়ায় বসে সরাসরি বাড়ানো বা এক্সটেন্ড করা যায় না। তবে এই ২ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে অন্য কোনো স্থায়ী ওয়ার্ক বা স্কিলড ভিসার জন্য আবেদনের পথ সুগম হতে পারে।
৪০৭ ভিসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে সরকারের সাম্প্রতিক আইনি পরিবর্তনের মাধ্যমে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে এই ভিসার জন্য আবেদন করার সময় এবং ভিসা অনুমোদনের (Grant) সময় আবেদনকারীকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করতে হবে। অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে ট্যুরিস্ট বা অন্য কোনো ভিসায় থেকে অনশোরে এই ভিসার আবেদন করার সুযোগ আর থাকছে না। ফলে এখন থেকে নিজ দেশ থেকেই স্পনসরশিপ নিশ্চিত করে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।