News update
  • শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন     |     
  • ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়     |     
  • ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা     |     
  • হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে     |     
বঙ্গলোক রিপোর্ট প্রবাস বাংলা 2026-07-30, 11:42am

আইইএলটিএস ছাড়াই বিদেশে পড়ার সুযোগ, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলতে পারে ভর্তি

489-854d9fca60b4bd07f9bb215d59ef55611785390135.jpg


বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী। তবে অনেকের জন্যই বিদেশে পড়াশোনার প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস স্কোর। পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি, নির্ধারিত স্কোর অর্জন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও খরচ—সব মিলিয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিকল্প সুযোগ খুঁজে থাকেন।


তবে সুখবর হলো, বিশ্বের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্তে আইইএলটিএসের পরিবর্তে অন্য ধরনের ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ গ্রহণ করে থাকে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী আগে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন (MOI) সনদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা, অনলাইন ইন্টারভিউ কিংবা অন্যান্য স্বীকৃত প্রমাণের ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।


২০২৬ সালে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ সব কোর্স, সব বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সব দেশের জন্য একই নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি নীতিমালা অবশ্যই যাচাই করতে হবে।


জার্মানি


উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণার সুযোগ এবং অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম শিক্ষাব্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে আইইএলটিএসের পরিবর্তে পূর্ববর্তী শিক্ষাজীবনে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার প্রমাণ বা MOI সনদ গ্রহণ করা হতে পারে।


কিছু ক্ষেত্রে University of Siegen, RPTU Kaiserslautern-Landau এবং RWTH Aachen University-এর নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণের বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এ ধরনের নিয়ম প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। ফলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখেই আইইএলটিএস ছাড়াই সব কোর্সে ভর্তি হওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।


ফ্রান্স


আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশ কিছু বিজনেস স্কুলও জনপ্রিয়। কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর আগের পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা যাচাই করে আইইএলটিএসের বিকল্প হিসেবে MOI বা অন্য কোনো প্রমাণ গ্রহণ করা হতে পারে।


NEOMA Business School, KEDGE Business School এবং Paris School of Business-এর মতো প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রাম ও ভর্তি-নীতির ওপর নির্ভর করে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের বিকল্প ব্যবস্থা থাকতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেও আবেদনকারীর ইংরেজি দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।


নেদারল্যান্ডস


ইংরেজি মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য নেদারল্যান্ডসও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি দেশ। দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস নির্দিষ্ট শর্তে MOI বা সমমানের প্রমাণ বিবেচনা করতে পারে।


HAN University of Applied Sciences, Saxion University of Applied Sciences এবং University of Groningen-এর কিছু প্রোগ্রামে ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে কোন কোর্সে কী ধরনের প্রমাণ গ্রহণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি শর্তের ওপর নির্ভরশীল।


কানাডা


কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আইইএলটিএসের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন পথও রয়েছে। কিছু কলেজ, পাথওয়ে প্রোগ্রাম এবং ইংরেজি ভাষা প্রস্তুতিমূলক কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পরবর্তী সময়ে মূল ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।


তবে কানাডার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও স্টাডি পারমিট—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইইএলটিএসের বিকল্প গ্রহণ করলেও ভিসা বা স্টাডি পারমিটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলাদা ভাষাগত বা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত থাকতে পারে।


যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া


যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইইএলটিএসের বিকল্প হিসেবে আগের শিক্ষাজীবনে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার প্রমাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মূল্যায়ন বা অন্য কোনো স্বীকৃত ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার ফল গ্রহণ করতে পারে।


একইভাবে আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাথওয়ে প্রোগ্রামেও নির্দিষ্ট শর্তে আইইএলটিএসের বিকল্প ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে। তবে দেশভেদে ভিসা নীতি ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতার শর্ত আলাদা হওয়ায় ভর্তি ও ভিসার বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।


আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে


বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখতে হয়—


মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন (MOI) সনদ—যদি আগের শিক্ষাজীবনের পড়াশোনার মাধ্যম ইংরেজি হয়ে থাকে

  • একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট
  • স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP)
  • প্রয়োজন হলে সুপারিশপত্র
  • বৈধ পাসপোর্ট
  • সিভি বা রেজুমে
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য একাডেমিক ও ব্যক্তিগত নথি
  • শুধু MOI থাকলেই কি আইইএলটিএসের প্রয়োজন নেই?


এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেই MOI সনদ দিয়ে বিশ্বের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলটিএস ছাড়াই ভর্তি হওয়া যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।


একটি বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএসের পরিবর্তে MOI গ্রহণ করলেও নির্দিষ্ট কোর্সে তা গ্রহণ নাও করতে পারে। আবার একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রামে MOI গ্রহণ করা হলেও অন্য প্রোগ্রামে বাধ্যতামূলক ইংরেজি ভাষার পরীক্ষার স্কোর চাওয়া হতে পারে।


তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ভর্তি-সংক্রান্ত ইংরেজি ভাষার যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে পড়ে দেখা জরুরি। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ভর্তি দপ্তরে ই-মেইল করে লিখিতভাবে নিশ্চিত হওয়া উচিত।


আইইএলটিএস ছাড়াই ভর্তি মানেই ভিসা নিশ্চিত নয়


বিদেশে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মনে রাখতে হবে—বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলটিএস ছাড়াই ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া এবং ভিসা পাওয়া এক বিষয় নয়।


বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বিকল্প পদ্ধতিতে ইংরেজি দক্ষতা গ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে আবেদনকারীর ভাষাগত দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা, পড়াশোনার উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য বিষয় যাচাই করতে পারে।


এ কারণে শুধু ‘আইইএলটিএস ছাড়াই ভর্তি’—এমন বিজ্ঞাপন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ভিসা নির্দেশনা এবং ভর্তি দপ্তরের তথ্য যাচাই করেই আবেদন করা নিরাপদ।


আবেদনের আগে যা করবেন


বিদেশে পড়াশোনার জন্য আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা উচিত—


১. যে কোর্সে আবেদন করবেন, সেখানে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক কি না যাচাই করুন।

২. MOI গ্রহণ করা হলে সেটির নির্দিষ্ট শর্ত জেনে নিন।

৩. ইংরেজি মাধ্যমে আগের পড়াশোনার প্রমাণ হিসেবে কোন ধরনের নথি প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করুন।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত ও ভিসার শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করুন।

৫. প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি দপ্তরে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

৬. ভুয়া বা অনির্ভরযোগ্য এজেন্সির পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্যকে অগ্রাধিকার দিন।


সবশেষে, আইইএলটিএস ছাড়াই বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও সেটি বিশ্ববিদ্যালয়, দেশ, কোর্স ও শিক্ষার্থীর একাডেমিক পটভূমির ওপর নির্ভরশীল। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ভর্তি নীতিমালা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। নিয়মিত পরিবর্তনশীল ভর্তি ও ভিসা নীতির কারণে ২০২৬ সালের জন্য আবেদন করার সময় সর্বশেষ তথ্যই অনুসরণ করা উচিত।