News update
  • শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন     |     
  • ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়     |     
  • ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা     |     
  • হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে     |     
আন্তর্জাতিক 2026-08-08, 9:30am

গ্রিসের উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, বাংলাদেশিই ৭২

ক্রিট দ্বীপ

ejtgesw-85bfcf266b5ddb5072acb2257bcdfb2a1786159838.jpg

ছবি: সংগৃহীত


গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে ২০২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্ট গার্ড। লিবিয়ার উপকূল থেকে নৌকায় করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা এসব অভিবাসীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুদান ও মিসরের নাগরিকও রয়েছেন।


গ্রিক সংবাদমাধ্যম ডিমোক্রেটিয়া-এর তথ্যের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ক্রিটের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে একের পর এক নৌকা থেকে এসব অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়া থেকে ক্রিটগামী অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দ্বীপটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।


একের পর এক নৌকা, ২০২ জন উদ্ধার


উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে। ক্রিটের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আইয়েরাপেত্রা এলাকার সমুদ্রে প্রায় ৪০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা শনাক্ত করে ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান।


নৌকাটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর গ্রিক কোস্ট গার্ডকে খবর দেওয়া হয়। পরে একটি কোস্ট গার্ড টহলদল এবং একটি মাছ ধরার নৌকা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিবাসীদের উদ্ধার করে। নৌকায় থাকা ৪০ জনকেই নিরাপদে তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের আইয়েরাপেত্রা বন্দরে নেওয়া হয় এবং পরিচয় যাচাই ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।


তবে এই ৪০ জনই ওই সময়ের একমাত্র উদ্ধার হওয়া অভিবাসী ছিলেন না। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই আরও দুটি নৌকা থেকে ১১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল।


প্রথম নৌকাটিতে ছিলেন ৫৬ জন। তাদের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক। দ্বিতীয় নৌকাটিতেও ছিলেন ৫৬ জন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক।


অর্থাৎ, ওই দুই নৌকা থেকেই মোট ৭২ জন বাংলাদেশি উদ্ধার হন। পরে আরও ৪০ জনকে উদ্ধার করা হলে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে ক্রিট উপকূলে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০২ জনে।


কোথায় রাখা হয়েছে উদ্ধার হওয়াদের


উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের আইয়েরাপেত্রা বন্দরে প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।


ক্রিটে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসী আগমনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপটির অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন করে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ আসায় তাদের থাকার ব্যবস্থা, খাবার, চিকিৎসা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করাও কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।


লিবিয়া-ক্রিট রুট কেন গুরুত্বপূর্ণ


লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ক্রিটের দক্ষিণ উপকূল সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে ক্রিটের দিকে নৌযাত্রা বাড়ছে।


জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যেও ক্রিটে সমুদ্রপথে অভিবাসী আগমনের প্রবণতা স্পষ্ট। ২০২৫ সালে গ্রিসে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় অংশ ক্রিট অঞ্চলে পৌঁছেছিল। ওই বছর গ্রিসে সমুদ্রপথে আগতদের মধ্যে ৩ হাজার ৭৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন, যা মোট আগমনের প্রায় ৯ শতাংশ। একই সময়ে সুদান ও মিসর থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ গ্রিসে প্রবেশ করেন।


ইউএনএইচসিআর-সমর্থিত একটি আঞ্চলিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ক্রিটে সমুদ্রপথে আসা ব্যক্তিদের বড় অংশ এসেছিলেন মিসর, সুদান ও বাংলাদেশ থেকে। ওই সময়ে লিবিয়া-ক্রিট রুটে আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।


পাচারকারীদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ


এই রুটে শুধু বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রাই নয়, মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক একটি পৃথক ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে আগে উদ্ধার হওয়া ৫০ জন অভিবাসীকে বহনকারী একটি নৌযাত্রায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।


কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া অভিবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নৌযাত্রাটি লিবিয়ার তবরুক শহর থেকে গ্রিসের উদ্দেশে পরিচালিত হয়েছিল এবং প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই নৌকাটি আইয়েরাপেত্রার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে শনাক্ত হয়েছিল।


ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপের পথে বাংলাদেশিরা


অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা এবং উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা দালাল বা মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে লিবিয়া অনেকের জন্য ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


তবে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পথটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছোট নৌকা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব এবং দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই লিবিয়ার জলসীমায় নৌযাত্রা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় বহু মানুষকে আটক বা উদ্ধার করা হয়েছে; একই সময়ে নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে তবরুক থেকে ক্রিটের দিকে যাত্রা বাড়ার কথাও সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।


ক্রিটে বাড়ছে উদ্ধার তৎপরতা


অভিবাসীদের নৌযাত্রা শনাক্ত করতে গ্রিক কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি ফ্রন্টেক্সও নজরদারি চালাচ্ছে। সর্বশেষ ৪০ জনের নৌকাটি ফ্রন্টেক্সের বিমান শনাক্ত করার পরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।


গ্রিক কর্তৃপক্ষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে একদিকে সমুদ্রে বিপজ্জনক যাত্রা ঠেকানো, অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মানবিক সহায়তা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। ক্রিটের দক্ষিণ উপকূলে লিবিয়া থেকে নৌকা আসার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বড় সংখ্যক অভিবাসী আগমনের আশঙ্কা রয়েছে।


সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের ঘটনায় ২০২ জনকে উদ্ধার এবং তাদের মধ্যে ৭২ জন বাংলাদেশি হওয়ায় বিষয়টি বাংলাদেশের জন্যও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এসব ঘটনা ইউরোপে যাওয়ার নামে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাঠানো দালাল ও মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।