
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশায় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এরই প্রভাবে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ১৭ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৪ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে গত ৫ জুনের পর এত উচ্চ পর্যায়ে ওঠেনি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯২ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার কমার সম্ভাবনা বাড়ায় স্বর্ণের বাজারে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, স্বর্ণের দাম যখন প্রায় ৪ হাজার ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছিল, তখন যারা কিনতে পারেননি, তাদের মধ্যে এখন বাজারে প্রবেশের তাড়না তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু জল্পনামূলক বিনিয়োগকারী তাদের শর্ট পজিশন বন্ধ করছেন। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়াও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর
স্বর্ণের বাজারে এখন সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য। বুধবার জুলাই মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (PPI) প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
এই দুই তথ্যের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকার ইঙ্গিত মিললে সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে। আর সুদের হার কমার প্রত্যাশা সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হিসেবে কাজ করে।
এর আগে গত সপ্তাহে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের কর্মসংস্থান তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ছিল। ফলে সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। জুলাইয়ের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও তিনজন কর্মকর্তা হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াচ্ছে স্বর্ণের চাহিদা
সুদের হার কমার প্রত্যাশার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে বুধবার প্রকাশ হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের CPI তথ্যের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও মঙ্গলবার বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৬৫ দশমিক ২৬ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানের দিকে। ওই তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হলে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে ফেডের নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কমে গিয়ে স্বর্ণের বাজারে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে।