
ছবি: সংগ্রহীত
১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট স্বেচ্ছায় হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করায় নিজ পরিবার কর্তৃক প্রায় ৫ বছর ধরে গৃহবন্দি থাকা দুই প্রাপ্তবয়স্ক বোনকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে তাঁদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে আদালত ভুক্তভোগী দুই বোনকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন।
৩৫ এবং ২০ বছর বয়সী দুই বোন যথাক্রমে ২০২০ ও ২০২১ সালে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের বাবা তাঁদের পাসপোর্ট ও নথিপত্র কেড়ে নিয়ে ঘরের ভেতর বন্দি করে রাখেন এবং পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে যেতে চাপ দেন। বিচারপতি সন্দ্বীপ জৈনের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানান, কোনো নাগরিক প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অভিভাবকত্বের দোহাই দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার সাংবিধানিক অধিকার বাবা-মায়ের নেই। গত বছর দুই বোন কোনোমতে পালিয়ে কলকাতায় চলে গেলে তাঁদের বাবা অপহরণের মিথ্যা মামলা করেন। উত্তর প্রদেশের আগ্রা পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে পুনরায় বাবার জিম্মায় দেয়। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে পরোক্ষভাবে এই বেআইনি বন্দিদশাকে সহায়তা করেছে।
আদালত ক্ষতিপূরণের মোট ২৫ লাখ রুপি আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিপূরণের ৫০% অর্থাৎ ১২ লাখ ৫০ হাজার রুপি দেবেন দুই বোনের বাবা। বাকি ৫০% অর্থ এই বেআইনি বন্দিদশায় ভূমিকা রাখা সংশ্লিষ্ট উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আদায় করা হবে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে দুই বোনের পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, এবং পরিচয়পত্রসহ সমস্ত ব্যক্তিগত নথিপত্র ফেরত দেওয়ার জন্য তাঁদের বাবাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের চূড়ান্ত আদেশে বলা হয়েছে, এই দুই নারী সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাঁদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো ব্যক্তির সাথে বসবাস করতে পারবেন। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারকে তাঁদের উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।