
ছবি: সংগ্রহীত
১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪ এএম
ঢাকার সাভারে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি এর একটি আস্তানায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অভিযানে মোহাম্মদ আরিফ (২৮) নামে এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে মূলহোতা নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’ এখনো পলাতক রয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট, ২০২৬) রাতে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের বাড়িতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একটি ব্যাগসহ আরিফকে আটক করা হয়। আরিফের ব্যাগ থেকে বিশেষ উপায়ে লুকানো ৬টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়. পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুরের ঐ আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে আরও ৯টি পাইপ বোমা, গানপাউডার, সায়ানাইড এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সাভার মডেল থানা ও ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট উদ্ধারকৃত মোট ১৫টি শক্তিশালী পাইপ বোমা সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।
জঙ্গি আরিফ গত ২ আগস্ট নিজেকে চালক পরিচয় দিয়ে ওই বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন এবং পরিবারসহ থাকার নাটক করে সেখানে বোমা তৈরির আস্তানা গড়ে তোলেন।
সিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, কারামুক্ত নব্য জেএমবি-র শীর্ষ শুরা সদস্য ও বোমা তৈরির প্রধান কারিগর ‘বোমারু মামুন’ ছদ্মবেশী এই আস্তানায় বসে বোমা তৈরির কাজ তদারকি করতেন. তাকে গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার হওয়া ছাতা-বোমা এবং ৩১ জুলাই আশুলিয়ার মুদি দোকানে ফেলে যাওয়া ব্যাগে পাওয়া প্রেশারকুকার বোমার নেপথ্যে এই চক্রটিই জড়িত ছিল। এছাড়া কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী ও কুমিল্লার সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের সঙ্গে এই আস্তানার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই অভিযানের বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে।