News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-10-14, 9:29am

আলাস্কার গ্যাস প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কিনতে রাজি তাইওয়ান: ট্রাম্প

trump-6ad5d29de368db3dcf6f9d8e133a223a1791948556.jpg

আলাস্কায় প্রস্তাবিত এলএনজি পাইপলাইন প্রকল্প থেকে গ্যাস কেনা ও বিনিয়োগের বিষয়ে তাইওয়ানের সম্মতির কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পাইপলাইন প্রকল্প থেকে উৎপাদিত গ্যাসের ৩০ শতাংশ কিনতে তাইওয়ান সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে প্রকল্পটির উন্নয়নে ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাইওয়ান। তবে চুক্তির শর্তাবলি স্পষ্ট নয় এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

খবর রয়টার্সের। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আলাস্কার ওয়াসিলায় রিপাবলিকান পার্টির আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকও উপস্থিত ছিলেন। 

তিনি জানান, পাইপলাইন প্রকল্পের উন্নয়নে তাইওয়ান ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি তাইওয়ানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং এ খাতের সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো। 

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাইওয়ানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালে দেশটির মোট আমদানি করা এলএনজির প্রায় ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গ্যাসের পরিমাণ এর তুলনায় কম। জ্বালানি সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমানো এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তাইওয়ানের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি সিপিসি করপোরেশন গত বছর আলাস্কা গ্যাসলাইন ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের সঙ্গে গ্যাস কেনা ও পাইপলাইন প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে একটি সমঝোতা করেছিল। এর আগে আলাস্কার গভর্নর জানিয়েছিলেন, প্রকল্পটি থেকে বছরে ৬০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার বিষয়ে আগ্রহপত্রে সই করেছে তাইওয়ান। তবে এসব সমঝোতা চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক ক্রয়চুক্তিতে রূপ নিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। 

প্রস্তাবিত আলাস্কা এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি মেট্রিক টন গ্যাস রপ্তানি করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটির আওতায় আলাস্কার উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের রপ্তানি টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে এশিয়ার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস সরাসরি সরবরাহ করা যাবে। ফলে পানামা খাল অথবা আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে জাহাজ চলাচলের প্রয়োজন কমবে এবং পরিবহন সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। 

এখন পর্যন্ত প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস কেনার বিষয়ে বিভিন্ন ক্রেতার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। তবে প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আরও ক্রয়চুক্তি প্রয়োজন। উচ্চ নির্মাণব্যয়, সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধি এবং তুলনামূলক কম খরচে অন্য উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ থাকায় প্রকল্পটির বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নিয়ে জ্বালানি খাতের একাংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ ও গ্যাস বিক্রির চুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়াও প্রকল্পটিতে বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন। তবে সিউল জানিয়েছিল, বিনিয়োগের বিষয়টি তখনও চূড়ান্ত হয়নি।