News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-10-15, 8:34am

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ডুবল জাহাজ, আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা, যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা ইরানের

hr-harmuj-5115432a6992a434c2d774193e29a1aa1792031690.jpg


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনে আঘাত লেগে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। একই সময়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হুতিদের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চললেও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গাজা নগরীতে ইসরায়েলি হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে ডুবল পণ্যবাহী জাহাজ



হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনে আঘাত লেগে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। চলমান যুদ্ধের মধ্যে মাইনে আঘাতের পর কোনো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হলো।এদিকে, জাহাজ চলাচল-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ও বুধবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী দুটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত বস্তু বা অস্ত্রের আঘাতের শিকার হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজ ডুবে যায়, অন্যটি নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।


সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া জাহাজটির সব নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুটি ঘটনায় কেউ আহত হননি। কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের হামলা উসকানিবিহীন, অযৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।


তবে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী যে জাহাজটি ডুবে গেছে, সেটিই ইরানের ঘোষণায় উল্লেখ করা মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত জাহাজ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ইরানের কর্মকর্তারা জাহাজটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি। এমনকি জাহাজের নাবিকদের পরিণতি সম্পর্কেও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আইআরজিসির বরাত দিয়ে বলা হয়, বুধবার সকালে জাহাজটি এমন একটি পথে চলাচল করছিল, যেটিকে ইরান অবৈধ ও বিপজ্জনক বলে দাবি করেছে। ওই সময় জাহাজটি একটি নৌমাইনে আঘাত পায়।


রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে পানিতে কাত হয়ে থাকা একটি জাহাজ থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। জাহাজটিতে ২ হাজার ৫০০টি কনটেইনার ছিল বলে সম্প্রচারে জানানো হয়। তবে ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।


হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান বারবার জাহাজগুলোকে দেশটির অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওমানের উপকূলের কাছাকাছি একটি পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।


আরামকোর সদর দপ্তরে হুতিদের হামলা



সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে রাতের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চালানো হামলায় ধাহরানে অবস্থিত একটি ভবনের ওপরের তিন তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ব্যবহার করতেন।


তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হননি। প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছেন।


ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার সক্ষমতা এখনো রয়েছে, আরামকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা তা আবারও সামনে এনেছে।


এর আগে বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবেশী ইয়েমেনের হুতিদের ওপর আবারও সন্দেহের তির যায়।


সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশপাশে ধোঁয়া দেখা যাওয়ার ঘটনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক তেলবাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চললেও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে: গালিবাফ



যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চললেও ইরানকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।


বুধবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা চালানো ঠেকানোই ইরানের প্রধান উদ্বেগ। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করলেই যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।


গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। এ কারণে একটি ‘দাদাগিরি করা শত্রুর’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ইরানকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।


তার ভাষায়, এর মাধ্যমেই টেকসই প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হবে।


গালিবাফ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এর জন্য মূল্য দিতে হবে এবং তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। ইরানের জনগণের সঙ্গে সমঝোতায় আসার প্রয়োজনীয়তা যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


গাজা নগরীতে ইসরায়েলি হামলায় নারী নিহত



ফিলিস্তিনের গাজা নগরীতে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় হামাসের একজন যোদ্ধাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে হামলার ফলাফল তারা তখনও পর্যালোচনা করছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি ইসরায়েলি বাহিনী।


ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।


গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেড় হাজারের কাছাকাছি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৯০ ছাড়িয়েছে।


জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা সাধারণত মন্ত্রণালয়টির দেওয়া পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করেন। নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন যোদ্ধা, তা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে উল্লেখ করে না। তবে তাদের হিসাবে নিহতদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু।হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ডুবি, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং গাজায় নতুন প্রাণহানির ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কাটেনি।

সূত্র: ইউএনবি