
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে। পাশাপাশি চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন এবং নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে তারা।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিশেষ করে কলিং ভিসা ও ই-ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি। নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কর্মীদের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমোদিত প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে নির্বাচিত কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এবং বৈধ ও যোগ্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ নিয়োগ এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নতুন ব্যবস্থা
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে মেডিকেল সেন্টারগুলো পরিদর্শন করবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পরিদর্শন শেষে পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। নতুন কোনো মেডিকেল সেন্টার তালিকাভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগ্রহী কর্মীরা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করাতে হবে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে। কোনো একটি কেন্দ্রকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।
সরকারের লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো, নিয়োগপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং বিদেশগামী কর্মীদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা। তবে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতির কথা জানানো হলেও কর্মী নির্বাচন, আবেদন ও নিয়োগের বিস্তারিত নির্দেশনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।