
ছবি: সংগৃহীত
একজন পুরুষ মানুষ নিজের জীবনে কতটা দায়িত্ব নিয়ে বেঁচে থাকে, সেটা বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না।
একটা বয়সের পর তার নিজের ইচ্ছেগুলো ধীরে ধীরে পরিবারের প্রয়োজনের কাছে ছোট হয়ে যায়।
নিজের জন্য কিছু কেনার আগে সে ভাবে, সংসারের খরচটা ঠিকমতো চলবে তো? সন্তানের পড়াশোনা, ওষুধ, স্ত্রীর প্রয়োজন, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা, সবকিছুর হিসাব করতে করতে নিজের জন্য কিছু রাখার কথা ভুলে যায়।
মাঝে মাঝে তারও ইচ্ছে হয় একটু নিজের মতো করে বাঁচতে, নিজের পছন্দের কিছু কিনতে, কোথাও ঘুরতে যেতে। কিন্তু সেই ইচ্ছেগুলো পূরণ করার আগে তার মনে পড়ে যায়, সংসারে এখনও কত কিছু বাকি।
নিজের জামাটা পুরোনো হয়ে গেলেও সে হয়তো নতুন জামা কেনার কথা ভাবে না। কিন্তু সন্তানের নতুন জামা কেনার সময় তার মুখে হাসি থাকে।
সে হয়তো নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলে না। কারণ সে জানে, তার চিন্তা বাড়লে পরিবারের অন্যদেরও চিন্তা বাড়বে।
বাইরে থেকে তাকে শক্ত মনে হয়। সবাই ভাবে, একজন পুরুষ মানুষ সব সামলে নিতে পারে। কিন্তু কেউ কি কখনো ভেবে দেখে, সেই মানুষটারও মন খারাপ হয়, তারও ভয় হয়, তারও কখনো মনে হয় একটু বিশ্রাম নিতে?
একজন পুরুষ মানুষ অনেক সময় নিজের কান্নাটাও লুকিয়ে রাখে। কারণ ছোটবেলা থেকেই তাকে শেখানো হয়েছে, পুরুষ মানুষকে শক্ত হতে হয়, দায়িত্ব নিতে হয়, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হয়।
কিন্তু তাকে কি কেউ শেখায়, নিজের কষ্টের কথা বলাও দুর্বলতা নয়?
একজন পুরুষের পরিচয় শুধু তার উপার্জন দিয়ে হয় না। তারও একটা মন আছে, কিছু স্বপ্ন আছে, কিছু অপূর্ণ ইচ্ছে আছে।
যে মানুষটা পরিবারের সবার ভালো থাকার জন্য নিজের অনেক ইচ্ছেকে পিছিয়ে দেয়, তার ভালো থাকার কথাটাও পরিবারের ভাবা উচিত।
কারণ একজন পুরুষ মানুষ শুধু সংসারের দায়িত্ব পালন করার জন্য জন্মায়নি। সেও মানুষ, তারও একটু ভালোবাসা, সম্মান, শান্তি আর নিজের মতো করে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
সংসারের সবাই যদি তার ওপর ভরসা করে, তাহলে তারও তো এমন একজন দরকার, যার কাছে সে নিশ্চিন্তে বলতে পারে, আজ আমারও খুব ক্লান্ত লাগছে।🙏