
উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) সুইফট অবজারভেটরি। ২২ বছর ধরে মহাকাশে কাজ করা এই টেলিস্কোপটি আগামী সপ্তাহে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন স্পেস ফোর্স।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় টন ওজনের সুইফট টেলিস্কোপটি ২০০৪ সালের ২০ নভেম্বর মহাকাশে পাঠানো হয়। মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ, বিশেষ করে গামা রশ্মির বিস্ফোরণ (গামা-রে বার্স্ট) এবং সুপারনোভা পর্যবেক্ষণের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।
টেলিস্কোপটির কক্ষপথ নিচে নেমে আসতে থাকায় সেটিকে রক্ষার উদ্যোগ নেয় নাসা। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্যাটালিস্ট স্পেসের সঙ্গে কাজ শুরু করে সংস্থাটি। পরিকল্পনা ছিল, লিংক (LINK) নামের একটি রোবটযান সুইফটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে উঁচু কক্ষপথে নিয়ে যাবে। এতে টেলিস্কোপটির কার্যক্রম আরও কয়েক বছর চালু রাখা সম্ভব হতো।
কিন্তু গত জুলাইয়ে উৎক্ষেপণের পর লিংক মহাকাশযানে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সমস্যার কারণে এটি নির্ধারিতভাবে কাজ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান বাতিল করা হয়। সেপ্টেম্বরে লিংক নিজেও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হয়ে যায়।
এদিকে, সূর্যের সাম্প্রতিক তীব্র সক্রিয়তার কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রসারিত হওয়ায় সুইফটের ওপর বায়ুমণ্ডলীয় বাধা বেড়ে যায়। এতে দ্রুত নিচে নামতে থাকে টেলিস্কোপটি। অক্টোবরের শেষ দিকে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা হারালে এর বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শুক্রবারের দিকে টেলিস্কোপটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। এর অধিকাংশ অংশ বায়ুমণ্ডলেই পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার কথা। তবে ঘন টাংস্টেন দিয়ে তৈরি কিছু যন্ত্রাংশ ও আয়নার অংশবিশেষ অক্ষত থাকতে পারে। সেগুলো পৃথিবীর কোথাও আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল রয়েছে। তবে অবশিষ্টাংশের অধিকাংশই সমুদ্রে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টেলিস্কোপটির গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন স্পেস ফোর্স।
দীর্ঘ ২২ বছরের অভিযানে সুইফট দুই হাজারের বেশি গামা রশ্মির বিস্ফোরণ এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০টি নক্ষত্রের বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ করেছে। পাশাপাশি ধূমকেতু, গ্রহাণু ও কৃষ্ণগহ্বর নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর পাঠানো সংকেতের ভিত্তিতে হাবল ও জেমস ওয়েবের মতো শক্তিশালী টেলিস্কোপ মহাকাশের বিভিন্ন ঘটনা আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সুইফটের বিদায় মহাকাশ গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা তৈরি করবে। এর সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।