News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-11-03, 8:18am

ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

মার্কিন হামলার খবর

iran-hamla-7593b63be19426b035551b0d569667e61793672298.jpg


ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিস্ফোরণের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন কেশম দ্বীপ ও হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এসব এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। খবরটি প্রকাশ করেছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সংবাদমাধ্যম দুটি।

এমন এক সময়ে হামলার খবর সামনে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি।’ কয়েক মাস ধরে কোনো লড়াই না চলায় একে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান করছে। কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকেও সই করেছিল। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধের কারণে সেটির বাস্তবায়ন আটকে যায়।

সর্বশেষ বিস্ফোরণের ঘটনা ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং মার্কিন বাহিনীর অভিযানের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।