
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী মো. সাব্বির হোসেন অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলেও, ২০২৫ সালের জুনে তাঁর শ্বশুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় ৫ জুন তিনি দেশে পৌঁছান।
দেশে ফেরার মাত্র দুদিনের মাথায়, ৭ জুন স্থানীয় বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে তীব্র শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে অবিলম্বে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতি ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তা না করলে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে রাজনীতি ছাড়া এবং দ্রুত দেশত্যাগের অঙ্গীকার করলে হামলাকারীরা তাঁকে ছেড়ে দেয়।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর সাব্বির হোসেন আইনি সুরক্ষার আশায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে, পুলিশ তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কটূক্তি ও অপমান করে থানা থেকে বের করে দেয় এবং তাঁর বক্তব্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। থানায় আইনি প্রতিকার না পেয়ে এবং পুনরায় হামলার আশঙ্কায় তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে নিজের পরিচয় গোপন করে আত্মগোপন করেন।
অবশেষে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ২০২৫ সালের ১৮ জুন তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে পুনরায় অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে হয়রানির আশঙ্কায় তিনি তাঁর ছাত্ররাজনীতির সময়কার সমস্ত ছবি ও নথিপত্র মুছে ফেলতে বাধ্য হন। অস্ট্রেলিয়া থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাব্বির হোসেন দেশের মানবাধিকার ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে দেশে ফিরলে পুনরায় প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কাবাদ ব্যক্ত করেছেন।