
ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর আশা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে একজন কর্মীর অভিবাসন ব্যয় ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন অধিকাংশ জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। তবে ব্যয় আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নির্বাচিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে আলোচনায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান একজন কর্মীর অভিবাসন ব্যয় ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত ব্যয়কে যৌক্তিক বলে মনে করছেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বর থেকে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার আশা করছেন তারা।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসন ব্যয় কমাতে সরকারকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। ব্যয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব হলে সামগ্রিক খরচ আরও কমিয়ে আনা যাবে। তবে সরকার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সীমা থেকেও সরে আসতে চায়।
এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়। ২০২৪ সালের ৩১ মে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের পর বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া।
দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছর শ্রমবাজারটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় মালয়েশিয়া ২৫টি প্রধান রিক্রুটিং এজেন্সি, ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেছে।
এদিকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে সামগ্রিক অভিবাসন ব্যয় এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
সরকারের লক্ষ্য, অতীতের মতো অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম যেন নতুন করে তৈরি না হয়। এ জন্য কর্মী পাঠানোর খরচ নির্ধারণ ও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।