News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-11-05, 10:47pm

ডেমোক্র্যাটদের জয়ে এআই খাতে শঙ্কা, নাসডাক ১০০-তে ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের লোকসানের আশঙ্কা

898948468-4038446890a4c46a9ec5c3a8bf8b12981793897230.jpg


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার। দিন শেষে নাসডাক ১০০ সূচকে প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে দেশটিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে কঠোর নজরদারি বাড়তে পারে। এতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বড় দরপতন হয়েছে সেমিকন্ডাক্টর ও নিউক্লাউড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে আলোচনায় থাকা কোরউইভের শেয়ারের দাম কমেছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে নিউক্লাউড প্রতিষ্ঠান নেবিয়াসের শেয়ারের দরপতন হয়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ১০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এনভিডিয়া ও ব্রডকমের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে নাসডাক কম্পোজিট সূচকও বড় ধরনের পতনের মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১০ শতাংশ কমে গেলে সূচকটি কারেকশন বা সংশোধনের পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে বাড়তে থাকা জনবিরোধিতা। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস এ খাতে কঠোর নজরদারি আরোপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। সুইস বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএসের বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের যে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় ৩০ শতাংশ নির্মাণকাজ স্থগিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেটা সেন্টার নির্মাণ, চিপ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু এসব বিনিয়োগ কত দ্রুত আয় ও মুনাফায় রূপ নেবে, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।

ইনক্লাইন ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী টেড পার্কহিল বলেন, ‘বাজার এখন এআইয়ের সম্ভাবনা থেকে এআইয়ের খরচের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে এআই বিশ্বকে রূপান্তরিত করবে, এতে সন্দেহ নেই। তবে এআই-সংশ্লিষ্ট প্রতিটি শেয়ারের বর্তমান মূল্য যে যথাযথ, তা বলা যায় না। এ খাতে অনেক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী অ্যাপ্লায়েড ডিজিটাল, সাইফার ডিজিটাল ও আইরেনের শেয়ারের দাম ১৮ শতাংশের বেশি কমেছে। এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত বিদ্যুৎ ও সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জিই ভার্নোভার শেয়ারের দাম কমেছে ৮ শতাংশ এবং কনস্টেলেশন এনার্জির কমেছে ৫ শতাংশ।

বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারও দরপতনের বাইরে থাকতে পারেনি। অ্যামাজনের শেয়ারদর কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অ্যালফাবেটের কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, স্মার্টফোন চিপ বিক্রিতে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় কোয়ালকমের শেয়ারের দাম কমেছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল, এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স।