
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক এক দিনেই ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এতে বাজারমূল্য থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার (২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার) উধাও হয়ে যায়। বৃহস্পতিবারের এই দরপতনের ধাক্কা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববাজারেও।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই সূচক লেনদেনের শুরুতে ৭ শতাংশ কমে যায়। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের শেয়ারবাজারেও ৮ শতাংশের বেশি দরপতন হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের আশঙ্কা এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর দেশটিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিধিনিষেধ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চিপ ও প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার নাসডাকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সূচকেও বড় পতন হয়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ডাও জোন্স কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়। অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের (এএমডি) দরপতন হয় ১৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া নিয়ে সংশয় বাড়ছে। একই সঙ্গে ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিদ্যুৎ ও পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিরোধিতাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
সূত্র: রয়টার্স, এপি ও CNN