News update
  • কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী     |     
  • সৌদির সড়কে একসঙ্গে ঝরলো ৭ বাংলাদেশির প্রাণ     |     
  • হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু     |     
  • নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী     |     
  • গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়িয়েছে সরকার, আজ থেকেই কার্যকর     |     
বঙ্গলোক ডেস্ক প্রথম পাতা 2026-11-07, 6:32am

গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার

fridom-fighter-5889ef302811fdd283c863080eff00ad1794011566.jpg


কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে (৭৮)। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

পরিবারের অভিযোগ, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানাতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত হননি। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও প্রশাসনের প্রতিনিধি না থাকায় গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

আব্দুস সাত্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করা আব্দুস সাত্তার অবসরের পর ছেলের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করতেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহ মহালক্ষ্মীপাড়ায় পৌঁছায়। এরপর বাদ মাগরিব জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

আব্দুস সাত্তারের ভাই মো. শাহজাহান ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, তাঁরা চেয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় সম্মানের মধ্য দিয়ে ভাইকে শেষবিদায় জানাতে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নয় মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা একজন মুক্তিযোদ্ধা জীবনের শেষ বিদায়েও প্রাপ্য সম্মান পেলেন না বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি পুলিশ লাইন থেকে বিউগল বাজানোর দলও এসেছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় পুলিশ এককভাবে গার্ড অব অনার দিতে পারেনি।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, সাধারণত সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর এ আনুষ্ঠানিকতা পালনের নিয়ম নেই। তবে তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ঢাকা থেকে মরদেহ আনার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ না করায় শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা অবশ্যই সেখানে উপস্থিত হতেন বলেও জানান তিনি।

তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ইদ্রিস মিয়ার বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তিনি বলেন, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের ব্যবস্থা করতে তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু ইউএনও তাঁদের জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম নেই।

ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতারও। তিনি বলেন, সাধারণত সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গার্ড অব অনার দেওয়া হলেও কোনো মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতি দেখানো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা তাঁর কোনো প্রতিনিধির উপস্থিত থাকা উচিত ছিল।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ব্রাহ্মণপাড়ার ঘটনাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।