News update
  • ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়     |     
  • ড্যাব এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান     |     
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে এনসিপির শীর্ষ নেতারা     |     
  • হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে     |     
  • গ্রিসের উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, বাংলাদেশিই ৭২     |     
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা 2026-08-05, 8:44am

কীভাবে সুস্থ থাকবেন

wellness-79b41d1e8541da5ad5e72a1e16a6994e1785897887.jpg

ছবি: অন্তর্জাল


সুস্থতা শুধু রোগমুক্ত থাকার নাম নয়; বরং শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাই প্রকৃত সুস্থতা। একটি স্বাস্থ্যকর জীবন গড়ে তুলতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।


১. সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ


খাদ্যই সুস্বাস্থ্যের মূল ভিত্তি। প্রতিদিনের খাবারে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকা উচিত।


প্রচুর শাকসবজি ও মৌসুমি ফল খান।

মাছ, ডিম, মাংস, ডাল ও দুধজাত খাবার থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করুন।

লাল চাল, আটার রুটি ও অন্যান্য পূর্ণ শস্যজাত খাবার বেছে নিন।

অতিরিক্ত তেল, চিনি, কোমল পানীয় ও ফাস্টফুড কম খান।

অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই পরিমিত লবণ ব্যবহার করুন।

২. পর্যাপ্ত পানি পান


মানবদেহের প্রায় ৬০ শতাংশই পানি। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।


প্রতিদিন অন্তত ২–৩ লিটার পানি পান করুন (আবহাওয়া ও কাজের ধরন অনুযায়ী বেশি লাগতে পারে)।

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন।

তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করুন।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম


শরীরকে সচল রাখতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই।


প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটুন।

সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা দৌড়ানোর অভ্যাস করতে পারেন।

যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, তারা প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ৫ মিনিট হাঁটুন বা শরীর নাড়াচাড়া করুন।


উপকারিতা:


হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম


ভালো ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে।


প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমান।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার চেষ্টা করুন।

ঘুমানোর আগে মোবাইল বা কম্পিউটার কম ব্যবহার করুন।

৫. মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা


মানসিক সুস্থতা শারীরিক সুস্থতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।


অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন।

পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান।

নিয়মিত প্রার্থনা, ধ্যান বা গভীর শ্বাসের ব্যায়াম করুন।

প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৬. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা


পরিচ্ছন্নতা অনেক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে।


খাবারের আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

প্রতিদিন গোসল করুন।

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করুন।

পরিষ্কার পোশাক পরুন এবং নখ ছোট রাখুন।

৭. ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ

ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বর্জন করুন।

মাদক ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন।

অতিরিক্ত চা, কফি ও কোমল পানীয় কম পান করুন।

৮. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা


অনেক রোগ শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখায় না।


বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করুন।

৯. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা


অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।


নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার কম খান।

ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।

১০. ইতিবাচক জীবনযাপন

সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করুন।

নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন।

শখের কাজের জন্য সময় রাখুন।

অন্যকে সাহায্য করুন এবং কৃতজ্ঞ থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন।


সুস্থ জীবনের দৈনিক অভ্যাস

ভোরে ঘুম থেকে উঠুন।

৩০–৪৫ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।

পুষ্টিকর নাস্তা করুন।

সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

ফল ও শাকসবজি খান।

রাতে ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমান।

মানসিক চাপ কম রাখুন এবং নিয়মিত প্রার্থনা বা ধ্যান করুন।


সুস্থ জীবন একদিনে গড়ে ওঠে না; এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাসের ফল। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিচ্ছন্নতা, মানসিক প্রশান্তি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই কয়েকটি অভ্যাস আপনাকে দীর্ঘদিন সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।