
আগামী ১১ আগস্ট ২০২৬ অস্ট্রেলিয়াজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের জাতীয় জনশুমারি (Census 2026)। দেশটির অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (ABS) প্রতি পাঁচ বছর পরপর এই জনশুমারির আয়োজন করে। এতে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত প্রায় সকল ব্যক্তি—নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা, অস্থায়ী ভিসাধারী এবং বিদেশি দর্শনার্থীদেরও তথ্য প্রদান করতে হবে।
এবারের জনশুমারিতে অনলাইনে তথ্য দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে যাদের প্রয়োজন হবে তারা কাগজের ফরমের মাধ্যমেও তথ্য জমা দিতে পারবেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, গৃহহীন জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের কাছেও জনশুমারির কার্যক্রম পৌঁছে দিতে হাজারো মাঠকর্মী কাজ করছেন।
২০২৬ সালের জনশুমারিতে কয়েকটি নতুন প্রশ্ন যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য লিঙ্গ পরিচয়, জন্মের সময় নিবন্ধিত লিঙ্গ এবং যৌন অভিমুখিতা সম্পর্কিত প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া পূর্বের তুলনায় একজন ব্যক্তি চারটি পর্যন্ত বংশগত পরিচয় (Ancestry) উল্লেখ করতে পারবেন। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যেও নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, জনশুমারির তথ্য দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক, গণপরিবহন, আবাসন, সামাজিক সেবা এবং বিভিন্ন সরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা তৈরিতে এই তথ্য ব্যবহার করা হয়। তাই প্রতিটি মানুষের সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইন অনুযায়ী, জনশুমারিতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। যথাযথ নির্দেশনা পাওয়ার পরও কেউ তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে জরিমানার বিধান রয়েছে। যদিও বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করায় এ ধরনের ব্যবস্থা খুব কমই নেওয়া হয়।
এদিকে, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জবাবে ABS জানিয়েছে, জনশুমারিতে সংগৃহীত সব তথ্য কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে এবং ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ না করে কেবল পরিসংখ্যানগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। জনশুমারির চূড়ান্ত ফলাফল ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জনশুমারির তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (ABS)-এর অফিসিয়াল জনশুমারি ওয়েবসাইট census.abs.gov.au-এ। প্রতিটি পরিবার ডাকযোগে একটি নির্দেশনাপত্র (Census instructions) পাবে, যেখানে একটি Census Number এবং লগইন নির্দেশনা থাকবে। ওই নম্বর ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে ফরম পূরণ ও জমা দেওয়া যাবে। যারা চাইবেন, তারা একই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাগজের (Paper Form) আবেদনও করতে পারবেন।