News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
জাতীয় 2026-09-01, 9:20am

জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন: সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা

ryr-f0a9ef32ac022d4590fd516270cd30fe1788232824.jpg


সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা আরও যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করতে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ এবং এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।


অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


২০ গ্রেডই থাকছে


অনুমোদিত নতুন বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।


নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।


ন্যায্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।


ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন


জাতীয় বেতনস্কেল একযোগে বাস্তবায়ন না করে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর্থিক সংশ্লেষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।


১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন তিনটি ধাপে কার্যকর করা হবে। বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


স্বল্প আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


পেনশনে বড় ধরনের বৃদ্ধি


নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের। সামরিক ও অসামরিক—সব ক্ষেত্রে একই সঙ্গে এটি বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।


তবে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্য না থাকায় সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


এর আগে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।


সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—


৯ হাজার টাকা বা কম নিট পেনশন: বৃদ্ধি ১০০ শতাংশ;

৯,০০১ থেকে ২০ হাজার টাকা: বৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ;

২০,০০১ থেকে ৩০ হাজার টাকা: বৃদ্ধি ৬৫ শতাংশ;

৩০,০০১ থেকে ৪০ হাজার টাকা: বৃদ্ধি ৬০ শতাংশ;

৪০,০০১ টাকা বা বেশি: বৃদ্ধি ৫৫ শতাংশ।


ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা অপেক্ষাকৃত বেশি সুবিধা পাবেন।


প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা ৩ হাজার টাকা


সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু করা হচ্ছে।


সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।


এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।


উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ


নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।


এতে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।


জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক বেতনস্কেল


বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে।


এ বেতনস্কেলও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর মতো ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।


সরকারের ধারণা, পর্যায়ক্রমে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।


সরকার মনে করছে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ কার্যকর করতে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এতে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিস্তারিত বিধান থাকবে।


অনুমোদিত বেতনস্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।