News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
জাতীয় 2026-09-01, 9:12am

নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫ উন্নয়ন প্রকল্প

tyy-6a4aafc4071ebeb20cf48e9793bd1a081788232321.jpg


দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থা এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইং-১-এর সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ তদন্ত, ই-পাসপোর্ট, স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মাদকাসক্তি নিরাময়, কারা ব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


পুলিশ অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ


চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় হলো দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ভবন কাম ব্যারাক নির্মাণ প্রকল্প। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ১৬ হাজার ২৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।


এ ছাড়া থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ স্থাপনা, পর্যটন পুলিশ কেন্দ্র ও হাইওয়ে পুলিশ স্টেশন নির্মাণে পৃথক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ৭ হাজার ৭৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ শেষ হওয়ার কথা।


বিশেষায়িত পুলিশিং সক্ষমতা বাড়াতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম প্রিভেনশন সেন্টার প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।


ঢাকা মহানগর পুলিশের সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আরেক প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।


সাইবার অপরাধ তদন্তে গুরুত্ব


ডিজিটাল নিরাপত্তাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ: এনহ্যান্সিং ন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন ক্যাপাসিটি অব বাংলাদেশ পুলিশ’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।


সরকারি অর্থায়ন ও প্রকল্প সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য সাইবার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো।


র‍্যাব-বিজিবি-কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি


র‍্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।


এ ছাড়া র‍্যাবের পরিচালন, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পৃথক কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ৭৩টি কম্পোজিট ও আধুনিক বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।


গাজীপুরে নবগঠিত ৬৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ২ হাজার ২৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।


বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের লজিস্টিকস ও নৌযান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং প্রতিস্থাপনযোগ্য নৌযান সংগ্রহের দুটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৭ হাজার ৫৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ও ২৩ হাজার ১৪৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা।


ই-পাসপোর্ট ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অ্যান্ড অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (১ম সংশোধিত)।


প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৯ হাজার ৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০২৮ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।


এর মাধ্যমে পাসপোর্ট সেবাকে আরও ডিজিটাল করার পাশাপাশি আধুনিক ও কার্যকর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


মাদকাসক্তি নিরাময় ও কারা ব্যবস্থার উন্নয়ন


মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ এবং পুনর্বাসন সেবা সম্প্রসারণেও নেওয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প।


সাত বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুন নাগাদ শেষ হওয়ার কথা।


এ ছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে।


কারা অধিদপ্তরের আওতায় ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, জামালপুর ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুনর্নির্মাণ, নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণ এবং পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্স সংরক্ষণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


ফায়ার সার্ভিসেও নতুন প্রকল্প


অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি সাড়াদান সক্ষমতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।


এর মধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ১২টি নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ এবং আটটি পুনর্নির্মাণ করা হবে।


এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সুবিধা বাড়াতে দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণে পৃথক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।


অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রযুক্তিতে জোর


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৫টি প্রকল্পের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন শুধু ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল অপরাধ তদন্ত, স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, ই-পাসপোর্ট, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৮ সাল ও তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।