
সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
দেশে উৎপাদনের সুযোগ থাকা কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। নিজের কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যান তিনি। এ সময় লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বৈঠকের বিষয়গুলো সাংবাদিকদের জানান।
বৈঠকে কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এজন্য দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে লাভজনক করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ কমানো ও কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকেও নজর দিতে হবে।
বাড়ছে সরিষা ও পেঁয়াজের উৎপাদন
ভোজ্য তেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের তথ্য বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন জাতের ফসলও মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
উদ্ভাবিত হয়েছে ১,০৯০ জাত
কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ১৫৫টি। পাশাপাশি এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
কৃষিতে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র সুলভমূল্যে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌর সেচে কমবে কৃষকের ব্যয়
কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচব্যয় এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
৪৩ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড
কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।