News update
  • শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ     |     
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও'র সাথে বৈঠক     |     
  • ইউপি নির্বাচনের জন্য ৪২ প্রতীক চূড়ান্ত     |     
  • বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: খাবার ও পানি মজুতের নির্দেশ     |     
  • চালকের আসনে কিশোর, আসামির তালিকায় অন্যজন     |     
নিজস্ব প্রতিবেদক জাতীয় 2026-09-14, 7:28am

‘দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ ও লুটপাটে জড়িত’

jafiz-2476e5cce82e46ec9e95ed21ef7cb1f81789349338.jpg


দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ ও লুটপাটে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এসব অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তজুমদ্দিন উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে। বিদেশি সহায়তার অর্থও চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, ফিলিপাইনে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাংলাদেশে সংশ্লিষ্টদের বিচার হয়নি।


দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’


তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে অন্যায়-অবিচারের বিচার জনগণের দীর্ঘ আন্দোলন ছাড়াই হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বছরের পর বছর মানুষ দাবি জানালেও অনেক অপরাধের বিচার হচ্ছে না।


আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের লন্ডনে বিপুলসংখ্যক বাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রেও সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব সম্পদ বাংলাদেশের জনগণের অর্থ লুট করে গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্পিকার।


প্রশাসনের একটি অংশ এখনো আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখনো প্রশাসনে তাদের বেশ কিছু লোক বসে আছে, যে জন্য প্রকৃত চিত্র এখনো জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাচ্ছে না।’


প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে আগের সরকার দীর্ঘ সময়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং একাধিক অসম চুক্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে ভারতীয় জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্পিকার বলেন, ভারতীয় জাহাজ এলে অন্য জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের জাহাজও সরিয়ে তাদের পণ্য আগে খালাস করা হয়। এতে দেশের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।


বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও যথাযথ শুল্ক আদায় হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র শুল্ক বা বিনা শুল্কে পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী।


সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে নিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। অথচ অন্য সীমান্তে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সবশেষে এ পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকার, দলটির নেতাকর্মী এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের দায়ী করেন স্পিকার। তার অভিযোগ, বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পদ ও ভাগ্য গড়তে দেশের স্বার্থ অন্য একটি রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।