
ছবি: সংগৃহীত
বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। একই সরলরেখায় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর অবস্থানের কারণে তৈরি হবে মহাজাগতিক এই বিরল দৃশ্য। প্রায় দুই বছর পর আবারও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন পৃথিবীবাসী।
এবারের সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। স্পেন, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া ও পর্তুগালসহ উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশ থেকেও গ্রহণের দৃশ্য দেখা যাবে। ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
বিরল এই দৃশ্য দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে জড়ো হচ্ছেন। তবে গ্রহণের সময় বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় কিছুটা উদ্বেগে রয়েছেন দর্শনার্থীরা। আকাশ পরিষ্কার না থাকলে অনেক জায়গা থেকেই গ্রহণের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা নাও যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস অবস্থার স্থায়িত্ব হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পুরোপুরি বা আংশিকভাবে আড়াল করে, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। চাঁদ পুরোপুরি সূর্যকে ঢেকে ফেললে তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় একই আকারের দেখায় বলেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সম্ভব হয়। সূর্য চাঁদের তুলনায় অনেক বড় হলেও পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব অনেক বেশি। অন্যদিকে চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি থাকায় আকাশে দুটিকে প্রায় সমান আকারের মনে হয়।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বিরল। নির্দিষ্ট কোনো স্থান থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ আরও কম।
এ কারণে এবারের গ্রহণকে ঘিরে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষ কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো ম্লান হয়ে রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসার বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।